ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। একই সঙ্গে সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে মোট প্রায় ৩০৩ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, আহতদের বেশিরভাগই সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং এর মধ্যে ২৭৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো ১০ জন সেনা গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে ৭ জন এবং ইরাকে ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘাত শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
এদিকে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি সতর্কবার্তা। দেশটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেসব হোটেলে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন, সেগুলোও এখন হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ বেসামরিক স্থাপনাও এই সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে চলে আসছে।
ইরান সরকার এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ২৩ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১,১৬৭ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৬৫৮ জনের অবস্থা অজানা রয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।

