মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রণালিটি আপাতত খোলা থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে নয়—বরং নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ে-নিক বলেছেন, এই নৌপথ ‘শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতির শর্তে’ চালু রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক জাহাজ বা বাহনকে এই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী নয়, বরং পুরোপুরি ‘অস্থায়ী’। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতির ওপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। সেখানে উত্তেজনা বাড়লে যে কোনো সময় আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে এই শর্তসাপেক্ষ খোলা থাকা কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
এদিকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও কিছুটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববার (১৯ এপ্রিল) সেখানে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এক ধরনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে সীমিতভাবে নৌপথ চালু রেখে চাপ কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আপাতত অব্যাহতই থাকছে।

