ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী হাসান আয়াদ। গত সোমবার ভোরে গাজার নুসাইরাত শহরে চালানো হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিল এই কিশোর কণ্ঠশিল্পী, যিনি ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন প্রতিবাদী ও হৃদয়স্পর্শী গান দিয়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যালেস্টাইন ক্রোনিকল জানিয়েছে, ওই হামলায় ৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। হাসান আয়াদ ছিলেন তাদের একজন। ছোট বয়স থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিলেন সঙ্গীতের মাধ্যমে। তার কণ্ঠে পরিবেশিত প্রতিবাদী গানগুলো তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
আয়াদের একটি গান, যা তার মৃত্যুর পর সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাতে বলা হয়:
“যুদ্ধবিমানের সঙ্গে, আমরা মৃত্যুর স্বাদ পেয়েছি,
স্থল ও সমুদ্র থেকে বিমান হামলা।
তারা ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে – মানুষ ক্ষুধায় মারা যাচ্ছেন,
সাক্ষী থাকো বিশ্ব, তারা যা করেছে –
তারা ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে,
যখন আরবরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন।”
গানটির ভিডিও শেয়ার করে গাজার এক সাংবাদিক লিখেছেন, “আজ তার কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল। যে শিশুটি মৃত্যুর গান গেয়েছিল, সে আজ নিজেই মৃত্যুর গল্প হয়ে গেল।”
শিশুশিল্পী আয়াদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন খ্যাতনামা ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক রশিদ মাশারাওয়িও। তিনি বলেন, “হাসান আয়াদ গাজা থেকে আমাকে একটি গান উৎসর্গ করেছিল। ‘জিরো ডিসটেন্স’ সিনেমার জন্য তার কণ্ঠে একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল। আজ সে আর নেই। বিমান হামলায় সে শহিদ হয়েছে।”
এই শিশুশিল্পীর অকাল মৃত্যু গাজার চলমান মানবিক সংকট ও সহিংসতার চিত্রকে আরো গভীরভাবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

