কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ভারত চালিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের একটি সামরিক অভিযান, যার পাল্টা জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে যখন ভারতের অধিকাংশ শোবিজ তারকা সামরিক অভিযানের সমর্থনে সরব, তখন ভিন্ন সুরে কথা বললেন পশ্চিমবঙ্গের দুই খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী কবীর সুমন ও নচিকেতা চক্রবর্তী।
“আমি যুদ্ধ চাই না”- স্পষ্ট ভাষায় কবীর সুমন-
ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবীর সুমন জানান, তিনি যেকোনো ধরনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি তো লিখেছিলাম আমার গানে গানে এই যুদ্ধ বন্ধের কথা। সেই গান আজ সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনে পড়বে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন দেশভাগের প্রেক্ষাপট নিয়েও- এই দেশ যখন ভাগ হয়েছিল, তখন কেউ আমার অনুমতি নিয়েছিল? তিনি বলেন, যেখানে মানবপ্রেম ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা নেই, সেখানে দেশপ্রেম একটি ‘বুজরুকি’ ছাড়া কিছু নয়।
কবীর সুমনের মতে, যুদ্ধে কেবল মানুষ নয়, প্রকৃতিরও অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। “কত গাছ পুড়ে যাচ্ছে, নিরীহ প্রাণী, পাখি ও পোকামাকড় প্রাণ হারাচ্ছে- এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না। পানিও বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে” বলেন তিনি।
“যুদ্ধ মানেই মুনাফার খেলা”- নচিকেতা চক্রবর্তী-
অপরদিকে নচিকেতা চক্রবর্তীর মতে, বিশ্বে যত যুদ্ধ হয়েছে, তার পেছনে মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থই কাজ করেছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। আর লাভবান হয় একটি বিশেষ শ্রেণি।”
নচিকেতা ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, “রকফেলারদের তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও ইতালিকে পেট্রল সরবরাহ করেছিল। কেউ বলছে এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কেউ বলছে শুধুই ব্যবসা। যেটাই হোক, যুদ্ধ আসলে স্পনসর করা হয়।”
এই দুই শিল্পীর বক্তব্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক মানবিক বার্তা বহন করছে, যেখানে শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন- সর্বোচ্চ মূল্য দেয় সাধারণ মানুষই।

