সৌদি আরবের মুদি দোকানগুলোতে আর পাওয়া যাবে না তামাকজাত পণ্য। দেশটির পৌরসভা ও আবাসন মন্ত্রণালয় এক নতুন নির্দেশনায় জানিয়ে দিয়েছে—সাধারণ সিগারেট থেকে শুরু করে ই-সিগারেট, সিসা কিংবা যেকোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য এখন থেকে এসব দোকানে বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
১৫ জুলাই সৌদি গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মুদি দোকানে এসব তামাক পণ্য প্রদর্শন করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, দোকানের শেলফে কিংবা কাউন্টারের সামনে এগুলো রাখা যাবে না। যদি কোনো দোকানি তামাকজাত পণ্য সংরক্ষণ করেন, তবে তা অবশ্যই গ্রাহকদের দৃষ্টির বাইরে, ভেতরে রাখতে হবে।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি—তামাকজাত পণ্য বিক্রি সৌদি আরবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়নি। নির্ধারিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রয়স্থলেই এগুলোর বিক্রি চালু থাকবে। কিন্তু এমন জায়গাগুলোতেও এখন থেকে তামাকপণ্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা যাবে না।
নতুন এই নিয়মে বয়স যাচাইয়ের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে কোনোভাবেই তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। দোকানি চাইলে পরিচয়পত্র চেয়ে বয়স যাচাই করতে পারবেন।
তবে সৌদি আরবে ধূমপান এখনো বৈধ। তবে সেটাও নির্দিষ্ট কিছু শর্তের আওতায়। সরকারি ভবন, হাসপাতাল, যানবাহন, বিমান কিংবা ট্রেনের ভেতরে ধূমপান একেবারেই নিষিদ্ধ। এমনকি কর্মস্থলেও খোলামেলা ধূমপান করা যাবে না। ধূমপান করতে হলে যেতে হবে নির্ধারিত ধূমপান এলাকা বা ‘স্মোকিং জোনে’।
এই সিদ্ধান্তকে সৌদি সরকারের ধূমপান নিরুৎসাহিত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই ধরনের পদক্ষেপ দেশটিতে আগেও নেওয়া হয়েছে, তবে এবার মুদি দোকান পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো সেই প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করল।
এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমানোর চেষ্টা, তেমনি দোকানিদেরও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই নিয়ম কতটা কার্যকর হয় এবং সৌদির অন্যান্য খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা আন্তরিকভাবে তা মেনে চলে।

