গাজার মাটিতে চলছে চরম মানবিক বিপর্যয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কানাডা।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জি-৭ জোটভুক্ত তৃতীয় দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল কানাডা—এর আগে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একইরকম ঘোষণা দিয়েছিল।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন,
“গাজায় মানুষের দুর্ভোগ আজ চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও খারাপ হচ্ছে।”
এই বাস্তবতাই কানাডাকে নীতিগতভাবে একটি সাহসী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
তবে কার্নি এটাও স্পষ্ট করেছেন, এই স্বীকৃতি শর্তসাপেক্ষ। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে আগামী বছরে হামাসকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং ভূখণ্ড নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অর্থাৎ, শুধু প্রতীকী স্বীকৃতি নয়, এই প্রক্রিয়ার পেছনে আছে বাস্তবতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা।
কানাডার এমন পরিকল্পনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,
“এটি মূলত হামাসের জন্য একটি পুরস্কারস্বরূপ, যা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”
ইসরায়েলের এমন কড়া অবস্থানের ফলে কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কেও উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই মাসেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, যদি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন চলতে থাকে, তবে তারা সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও একইরকম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট শর্ত না মানে, তবে যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
এখন কানাডার ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, পশ্চিমা বিশ্বের বড় অংশ ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান বদলে নিচ্ছে।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে এই স্বীকৃতির সংখ্যা এতদিন ছিল খুবই কম। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়া মানে শুধু একটা কাগুজে ঘোষণা নয়—এটা বিশ্ব রাজনীতির ভাষা পাল্টে দেওয়ার ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন প্রশ্নে একধরনের দ্বিধান্বিত নীতি অনুসরণ করে আসছিল পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু গাজার চলমান দুঃসহ মানবিক বিপর্যয়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং ইসরায়েলের একতরফা হামলা দেখে এখন অনেক দেশই তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।
কানাডার এই সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু ফিলিস্তিন নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।

