চীনের রাজধানী বেইজিং ও উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। গত তিন দিন ধরে চলমান দুর্যোগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দাকে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বেইজিংয়ের মিয়ুন ও ইয়াংকিং জেলায়, যেখানে মৃতদের বড় অংশের বাস।
চীনের সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, মৃতদের মধ্যে ৩০ জনই বেইজিংয়ের। এর মধ্যে মিয়ুনে ২৮ জন এবং ইয়াংকিংয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হেবেই প্রদেশে। এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বন্যার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১৩০টি গ্রামে, নষ্ট হয়েছে শত শত কিলোমিটার সড়ক। এই ১৩০ গ্রামের বাসিন্দারাই সরিয়ে নেওয়া ৮০ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
বর্ষণ শুরু হয় ২১ জুলাই থেকে, যার সঙ্গে যোগ হয় মৌসুমি ঝড়। টানা ১০ দিন পরে বুধবার আবহাওয়া দপ্তর বৃষ্টির সতর্কতা প্রত্যাহার করলেও সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও খারাপ হতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, জরুরি মেরামত ও সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৫৫ কোটি ইউয়ান (৭ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দিয়েছে।
বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী বেইজিংয়ের বিভিন্ন এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি দপ্তর এবং অন্তত ৩১টি সড়ক। এর মধ্যে মেরামতের পর ১৫টি সড়কে সীমিতভাবে যান চলাচল শুরু হলেও বাকি ১৬টি এখনও চলাচলের অযোগ্য।
চীনের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে চলতি সপ্তাহের সোমবার রাত পর্যন্ত বেইজিংয়ে ১৬৫.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে মিয়ুন ও ইয়াংকিং জেলায়, যেখানে ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু সোমবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই কিছু এলাকায় ৯৫.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

