গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত শিশুর সংখ্যা ১৮ হাজার ৫৯২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিশুদের অনেকে জীবন শুরু করার সুযোগও পায়নি। কেউ কেউ জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলা কিংবা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে জন্মের দিনেই প্রাণ হারিয়েছে ৯ নবজাতক। প্রথম দিনে নিহত হয় ৫ শিশু, দ্বিতীয় দিনে ৫ জন এবং তৃতীয় দিনে ৮ জন। এছাড়া এক মাস বয়সী ৮৮ জন, দুই মাস বয়সী ৯০ জন এবং তিন মাস বয়সী ৭৮ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর লাগাতার সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। টানা হামলায় গাজা রূপ নিয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে, যেখানে চরম খাদ্যসংকটসহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের এসব হামলাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটিরই দুটি মানবাধিকার সংগঠন- বেটসেলেম এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েল। তারা বলছে, এই কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি সমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার অংশ।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ায়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
গণহত্যার অভিযোগে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

