রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপ যেন এখনো স্থির হয়ে উঠতে পারেনি। গত ৩০ জুলাই সকালে সেখানে ভয়ঙ্কর এক ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল প্রায় ৮.৮—গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। আর সেই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও একের পর এক আফটারশক কাঁপিয়ে দিয়েছে এলাকাটি।
রাশিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক অফিস জানিয়েছে, একদিনের মধ্যেই প্রায় ১২০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৭ পর্যন্ত। এমনকি জনবহুল এলাকাতেও ২ থেকে ৫ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মূল কম্পন যেহেতু ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই এ ধরনের আফটারশক স্বাভাবিক এবং এ অবস্থা কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। যদিও এখন কিছুটা তীব্রতা কমেছে, কিন্তু সতর্কতা এখনও জরুরি।
৩০ জুলাইয়ের ভূমিকম্পটির উৎস ছিল কামচাটকার উপকূলে, যা ১৯৫২ সালের পর এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির ভূগর্ভ গবেষণা বিভাগও এটির মাত্রা ৮.৭ বলে উল্লেখ করেছে।
এই কম্পনের ফলে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কামচাটকা এবং আশপাশের অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করে। সাখালিন অঞ্চলের সেভেরো-কুরিলস্কি জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। সেইসঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামির শঙ্কা দেখা দেওয়ায় জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইনও সতর্কতা জারি করে।
এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও একজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ।
ভূমিকম্পের পর আফটারশক সাধারণ ঘটনা হলেও এত বড় পরিসরে এত বার মাটি কাঁপা সাধারণ নয়। কামচাটকার মানুষজন এখনো আতঙ্কে, ঘরবাড়ির বাইরে কাটাচ্ছেন সময়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ বা মাস জুড়ে তারা এই ধরনের কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকতে চান।

