শ্রীলঙ্কায় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির প্রধান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা হার্শা ইলুকপিটিয়াকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। আজ মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে তিন বিচারপতির বেঞ্চ তাকে আদালত অবমাননার দায়ে সাজা দেন।
ইলুকপিটিয়া বিদেশি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে করা বহু মিলিয়ন ডলারের ভিসা আউটসোর্সিং চুক্তি বাতিলের নির্দেশ অমান্য করায় দোষ স্বীকার করেন। এ কারণে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। তিনি ইতিমধ্যে এক বছর ধরে হেফাজতে ছিলেন। মামলাটি ঘুরপাক খায় পূর্ববর্তী সরকারের দেওয়া এক চুক্তিকে ঘিরে। স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতি ভিসায় মাত্র এক ডলার নিত, সেখানে বিদেশি কনসোর্টিয়াম সেটি বাড়িয়ে ২৫ ডলার নেয়। ভারতীয় জিবিএস টেকনোলজি সার্ভিসেস, আইভিএস গ্লোবাল এফজেডসিও এবং প্রযুক্তি অংশীদার ভিএফএস গ্লোবাল মিলে ওই কনসোর্টিয়াম গঠন করে। তারা এমন দেশ থেকেও ফি আদায় করত যাদের নাগরিকদের ভিসা লাগত না।
এ নিয়ে তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী হরিন ফার্নান্দো এবং বিরোধী দল সমালোচনা করেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত ফি পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করবে। আবেদনকারীরাও অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতা ছাড়া দেওয়া এই চুক্তিতে ১৬ বছরে কনসোর্টিয়ামটি ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারত। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট স্থানীয় পরিষেবাদাতাকে সাময়িকভাবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইলুকপিটিয়া তা মানেননি। এখনও চুক্তির বৈধতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
রাজাপাকসে ভাইদের শাসনামলের দুর্নীতির মামলা নতুন করে খোলার পর প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ইলুকপিটিয়ার সাজা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

