মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো। দেশটির সিনেটে রেকর্ড ৯০১ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন পেয়েছে, যা এখন কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। স্বাক্ষর হলেই এটি আইনে পরিণত হবে—যা পরিচিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সিনেটের উচ্চকক্ষে ৭৭ বনাম ২০ ভোটে বিলটি পাস হয়। এত বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা বাজেট শুধু সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয় নয়—এর ভেতরে লুকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার, মিত্রদের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
নতুন প্রতিরক্ষা আইনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বিলে।
এর পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর জন্যও বড় অঙ্কের সামরিক সহায়তা রাখা হয়েছে। আগামী দুই বছরে ইউক্রেন পাবে মোট ৮০০ মিলিয়ন ডলার—প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন করে। ইসরাইলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। আর তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সহায়তায় রাখা হয়েছে এক বিলিয়ন ডলার।
বিলটিতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ‘সিজার আইন’ বাতিলের কথাও বলা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর—তাদের বেতন প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও এনডিএএ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিরল কিছু আইনের একটি, যা নিয়মিতভাবে দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়ে থাকে, এবার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতার কারণে বিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল।
এই কাটছাঁটের তালিকায় রয়েছে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (DEI) এবং জলবায়ুকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি—যেগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় বা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বলে মনে করছে।
এই প্রতিরক্ষা বিল কেবল অর্থের হিসাব নয়; এটি বিশ্বকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত বার্তাও। কোথায় শক্তি বাড়ানো হবে, কাদের পাশে দাঁড়ানো হবে, আর কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে—সবকিছু মিলিয়ে ৯০১ বিলিয়ন ডলারের এই বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে দেয়।
এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এই আইন বাস্তবে কীভাবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।

