প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপন আরও জোরদার করার পথে এগোল ইসরায়েল। সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
বুধবার ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশন জানায়, ইসরায়েলি সরকার ইতোমধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। নির্মাণকাজটি হবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-ওয়ান’ এলাকা জুড়ে, যা ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের মা’আলে আদুমিম বসতির সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই এলাকায় বড় পরিসরে বসতি গড়ে উঠলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ আরও সংকুচিত হয়ে যাবে।
ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পূর্ব জেরুজালেমে এ ধরনের বসতি সম্প্রসারণ স্থগিত ছিল। তবে চলমান গাজা যুদ্ধ সেই বাস্তবতা বদলে দিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক আপত্তি উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে দখলদারিত্ব বিস্তৃত করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করা, পাশাপাশি সেখানে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বৃদ্ধি রোধ করা।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল, যা আজও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
গাজা যুদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক মনোযোগের ফাঁকে বসতি নির্মাণ কার্যক্রম আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই পশ্চিম তীরে ১০ হাজার ৯৮টি বসতি ইউনিট নির্মাণের টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিকে কার্যত অকার্যকর করে তুলছে। নতুন বসতি নির্মাণের ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমিতে অধিকার আরও সীমিত হয়ে পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আরও দূরে সরে যাবে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

