ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একদিন ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। একই সঙ্গে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তির ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, ইতিহাস বলছে বিশ্বের স্বৈরশাসকেরা অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেই পতনের মুখে পড়ে। ট্রাম্পও এর ব্যতিক্রম হবেন না। তিনি বলেন, ইরান হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে। এমন একটি দেশকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত শক্তির সামনে কখনো মাথা নত করতে দেওয়া হবে না।
খামেনির অভিযোগ, চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই জানতেন কীভাবে একটি দেশ চালাতে হয়, তাহলে তিনি আগে নিজের দেশকেই ঠিকভাবে পরিচালনা করতেন। ভাষণের শেষ অংশে তিনি ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে যুবসমাজকে তিনি সতর্ক ও সংহত থাকার বার্তা দেন।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া আন্দোলন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সহিংস পরিস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান কর্তৃপক্ষ সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি জানায়, বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরান প্রায় ১২ ঘণ্টা কার্যত অফলাইনে ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, চলমান অস্থিরতায় অন্তত ৪১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

