দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মার্কিন সামরিক ও নৌ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হবে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায় তাহলে দখলকৃত ভূখণ্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহনের কেন্দ্রগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইসরায়েলকেও পরোক্ষভাবে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং এটিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভের আয়োজকদের উল্লেখযোগ্য অংশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার জানিয়েছেন দেশটির পুলিশের প্রধান আহমদ-রেজা রাদান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত মূল গোষ্ঠীগুলোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় বা সংখ্যা তিনি প্রকাশ করেননি।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ইসরায়েলি সূত্র জানায়, ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে যখন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে, তখন সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের শঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করারও সতর্কতা দিয়েছেন তিনি। শনিবার তিনি দাবি করেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেলেও উচ্চ সতর্কতার বাস্তব অর্থ কী তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়নি। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত হয়। সে সময় ইরানে বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
শনিবার টেলিফোন আলাপেও ইরানে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন একজন কর্মকর্তা এই আলাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চললেও সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইচ্ছা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা এখনও তীব্র আকারে বিরাজ করছে।

