ওপেকভুক্ত দেশগুলোতে ডিসেম্বরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। বিশেষ করে ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে সরবরাহ হ্রাসে এই প্রবণতা দেখা গেছে, বলে জানিয়েছে খাত সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলো দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে। এটি নভেম্বরের তুলনায় প্রায় এক লাখ ব্যারেল কম। উত্তোলন হ্রাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে ইরান।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং রাশিয়া ও অন্যান্য দেশসহ গঠিত ওপেক প্লাস সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তোলন বৃদ্ধির গতি ধীর করেছে। বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং কিছু সদস্য দেশের নির্ধারিত কোটার সীমাবদ্ধতা মূল কারণ। এছাড়া পূর্বের অতিরিক্ত উত্তোলনের ক্ষতিপূরণের জন্য কিছু দেশকে উত্তোলন কমাতে হচ্ছে। এসব কারণে ডিসেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উত্তোলন কমেছে।
ডিসেম্বর মাসে আটটি ওপেক প্লাসভুক্ত দেশের উত্তোলন বৃদ্ধির কথা ছিল। এর মধ্যে আলজেরিয়া, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিতভাবে দৈনিক ৮৫ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য নির্ধারিত দৈনিক ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল ক্ষতিপূরণমূলক হ্রাস কার্যকর হওয়ার কারণে নিট বৃদ্ধি সীমিত হয়েছিল। জরিপে দেখা গেছে, বাস্তবে এই পাঁচ দেশের সম্মিলিত উত্তোলন বেড়েছে মাত্র দৈনিক ২০ হাজার ব্যারেল।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ইরানের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় এক লাখ ব্যারেল কমেছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জাহাজ চলাচল এবং সরবরাহ শেষে ট্যাংকার ফেরার ওপর মাসভিত্তিক রফতানির সংখ্যা নির্ভর করে, বলছে ট্যাংকার ট্র্যাকিং সংস্থাগুলো।
ডিসেম্বরে ভেনিজুয়েলার তেল সরবরাহ দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেল কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের কারণে রফতানি কমার প্রভাব জানুয়ারিতে আরও বাড়তে পারে। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানিয়েছে, ডিসেম্বরের বেশির ভাগ সময় ভেনিজুয়েলার উত্তোলনে বড় পরিবর্তন ছিল না। তবে তারা আশা করছে, চলতি মাসে দেশের তেল ও কনডেনসেট উত্তোলন কমে দৈনিক ৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হতে পারে, যা ডিসেম্বরে ছিল প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল।
জাহাজ পর্যবেক্ষণ তথ্য এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসের রফতানি রেকর্ড অনুযায়ী, নভেম্বরে ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি গড়ে দৈনিক ৯ লাখ ৫২ হাজার ব্যারেল হলেও ডিসেম্বরে তা নেমে আসে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ব্যারেলে।
ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তোলনে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে এই দুই দেশের পরিসংখ্যান নিয়ে মতবিরোধ আছে। রয়টার্স জরিপ ও ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, তারা মোটামুটি নির্ধারিত কোটার কাছাকাছি উত্তোলন করছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির হিসাব বলছে, কিছু দেশ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করছে।
রয়টার্সের জরিপ এলএসইজি, কেপলারসহ বিভিন্ন ফ্লো ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং তেল কোম্পানি, ওপেক ও পরামর্শদাতা সূত্রের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

