গাজায় চলমান জাতিগত নিধন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতির মধ্যেও নিউইয়র্ক নগরের পেনশন তহবিল আবার ইসরায়েলের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ শুরু করতে পারে। এতে শহরের জনগণের করের টাকা সরাসরি ইসরায়েলের সরকারি কোষাগারে যাবে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস গত শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নগর কর্তৃপক্ষ এই বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করছে। তবে শহরের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে তহবিল তুলে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
নিউইয়র্কের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মার্ক লেভিন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, “ইসরায়েলি বন্ডের পারফরম্যান্স ভালো এবং বিনিয়োগ মানও উন্নত। আমার দায়িত্ব আগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া।”
ইসরায়েলি সরকারি বন্ড মূলত রাষ্ট্রকে দেওয়া ঋণ। বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত সুদ পান, আর ইসরায়েল সরকার সরাসরি অর্থ পায়।
সমালোচকরা বলছেন, এই বিনিয়োগ অর্থাৎ ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি, অবৈধ বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষ হত্যার সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সহায়তা।
নিউইয়র্কের এই উদ্যোগ সিটি হলের ভেতরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র জোহরান মামদানি প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের আদেশ বাতিল করা। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, নিউইয়র্কের সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে বর্জন বা সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নিতে পারবে না।
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার দীর্ঘদিনের সমালোচক জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার আগে বলেছিলেন, “নিউইয়র্কের কোনো তহবিল এমন কাজে বিনিয়োগ করা উচিত নয় যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।”
মার্ক লেভিন নিজে ইহুদি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি দাবি করেন, পেনশন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা উচিত। এগুলো শুধুমাত্র আর্থিক মাপকাঠিতে নেওয়া হবে।
তবে মুডিস-এর মতো রেটিং সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইসরায়েলি বন্ড এখন ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ’। তবু লেভিন পুনরায় এসব বন্ড কেনার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
নতুন এই বিতর্ক শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত রাষ্ট্রে নিউইয়র্কের পেনশন তহবিল বিনিয়োগ করা কি ঠিক হবে না তা নিয়ে।
এই বিতর্ক পুরোনো অভ্যাসের ঠিক বিপরীত। ৫০ বছর ধরে নিউইয়র্ক নিয়মিত লাখ লাখ ডলার ইসরায়েলি বন্ডে বিনিয়োগ করে আসছিল। তবে ২০২৩ সালে তৎকালীন আর্থিক কর্মকর্তা ব্র্যাড ল্যান্ডার এই প্রথা ভেঙে দেন। তিনি নতুন বন্ড কিনে বিনিয়োগ না করে, আগের বন্ডগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দেন।
ল্যান্ডার তখন বলেছিলেন, “ইসরায়েলকে কোনো বিশেষ ছাড় নেই। অন্যান্য দেশের মতো সাধারণ মানদণ্ডে বিচার করা হবে।”

