যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি ইরানের সঙ্গে কথা বলছি এবং প্রয়োজন হলে আলোচনার পথ খোলা রাখছি। আমি ইতিমধ্যেই কথা বলেছি এবং ভবিষ্যতেও কথা বলার পরিকল্পনা আছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে, তবে আশা করছেন সেটি ব্যবহার করতে হবে না।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছানোর পর তিনি জানান, এই বহর “প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম।” এর মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে চেয়েছেন, তবে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ৪৭৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট বিধি-নিষেধের কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি, যার মধ্যে অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা ‘দাঙ্গাকারীদের’ সহিংসতায় প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষ। এই তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তেহরানের রাজধানী শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির ছায়া স্পষ্ট। ২৯ বছর বয়সী এক তরুণী বলেন, “আমি যুদ্ধ চাই না। শুধু চাই, এমন কিছু হোক, যাতে ভবিষ্যৎটা একটু ভালো হয়।”
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরকারপন্থী ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশাল পোস্টারে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ধ্বংসের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা ও প্রভাব আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্ক পদক্ষেপ এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং জনসাধারণের ক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

