নতুন নথি প্রকাশ—
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত শুক্রবার জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত আরো নথি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্কের যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব পূর্বে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশিত নথিপত্রের কিছু ই–মেইল থেকে জানা যায়, মাস্ক ও এপস্টেইন অন্তত দুটি পৃথক উপলক্ষ নিয়ে আন্তরিকভাবে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন। এতে এপস্টেইনের মালিকানাধীন ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপে মাস্কের ভ্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও আলোচনা ছিল।
মাস্ক ও এপস্টেইন ২০১২ ও ২০১৩ সালে এই ই–মেইল চালাচালি করেন। এতে দেখা যায়, তারা দুজনে মিলে মাস্ক কখন দ্বীপে যাবেন তা ঠিক করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মাস্ক শেষ পর্যন্ত দ্বীপে যেতে পারেননি।
২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর মাস্ক এপস্টেইনকে লিখেছিলেন, ‘ছুটিতে আমি সেন্ট বার্তস এলাকায় থাকব। সেখানে যাওয়ার ভালো সময় কোনটা?’ জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘১ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন। যখন খুশি আসুন। আপনার জন্য সব সময় দরজা খোলা।’
পরবর্তী কয়েকটি ই–মেইলে মাস্ক তার সফরসূচি নিয়ে কথা বলেন। ২ জানুয়ারি তারা যাত্রার তারিখ ঠিক করেন। কিন্তু এপস্টেইন শেষ মুহূর্তে জানান, তাকে নিউইয়র্কে থাকতে হবে। এপস্টেইন মাস্ককে লিখেন, ‘দুঃসংবাদ—কর্মব্যস্ততার কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাকে নিউইয়র্কে থাকতে হবে। আমি আশা করেছিলাম আমরা একসঙ্গে কিছু আনন্দঘন সময় কাটাব। আমি খুব হতাশ। আশা করি, শিগগিরই আরেকটি সময়সূচি ঠিক করতে পারব।’
২০১২ সালের নভেম্বরে এপস্টেইন ই–মেইলে মাস্ককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘দ্বীপে আসার হেলিকপ্টারে আপনারা কতজন থাকবেন?’ মাস্ক লিখেছিলেন, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ (মাস্কের সাবেক স্ত্রী) ও আমি। আপনার দ্বীপের সবচেয়ে বড় পার্টি কবে হবে?’
এপস্টেইন পরবর্তী ই–মেইলে মাস্ককে ভ্রমণের জন্য উৎসাহ দেন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তাবও দেন। মাস্ক ২৫ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে লিখেছিলেন, ‘আপনার কি কোনো পার্টির পরিকল্পনা আছে? এ বছর আমি প্রচুর কাজ করছি। তাই আমার বাচ্চারা বড়দিনের পর বাড়ি গেলে আমি সেন্ট বার্তস বা অন্য কোথাও গিয়ে পার্টি করতে চাই। আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমি শান্ত দ্বীপে থাকতে চাই।’
জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘বুঝতে পেরেছি। তাহলে সেন্ট বার্তসে দেখা হবে। তবে আমার দ্বীপে (নারী-পুরুষের) অনুপাত তালুলাহর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।’ মাস্ক লিখেছিলেন, ‘অনুপাত তালুলাহর জন্য কোনো সমস্যা নয়।’
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি মাস্ক এপস্টেইনকে ই–মেইল করে জানান, ‘সফর আর হচ্ছে না’ এবং লিখেছেন, ‘যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে।’
মাস্ক সব সময় এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন অস্বীকার করে আসছিলেন। নতুন প্রকাশিত ই–মেইলে দেখা গেছে, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, এপস্টেইন একজন খারাপ চরিত্রের মানুষ এবং তিনি একাধিকবার তাকে নিজের দ্বীপে আমন্ত্রণ দিয়েছিলেন যা তিনি নাকচ করেছিলেন।
এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, তিনি গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে চিনতেন না এবং তাদের সঙ্গে তোলা একটি ছবি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি আরো উল্লেখ করেছিলেন, তিনি তালুলাহসহ মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য এপস্টেইনের নিউইয়র্কের বাসায় গিয়েছিলেন।
নতুন প্রকাশিত ই–মেইল নথি প্রকাশের পর মাস্ক বা তার কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে কারাবন্দী অবস্থায় আত্মহত্যা করেন।

