ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এরফান সোলতানি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী দোকানি সোলতানির আইনজীবী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র: বিবিসি
আইনজীবী আমির মউসাখানি বার্তা সংস্থা এএফপিক জানান, গত শনিবার এরফান সোলতানি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির সময় তাঁর মুঠোফোনসহ সব জিনিস ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জামিনের জন্য প্রায় ১২,৬০০ ডলারের অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, আইএসএনএ এবং ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
এরফান সোলতানির বাড়ি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের কারাজ শহরের ফারদিসে। ৮ জানুয়ারি তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আগে শহরে বিক্ষোভ তুঙ্গে ছিল।
গ্রেপ্তারের তিন দিনের মাথায় পরিবারের কাছে জানানো হয়, “বিচার শেষ হয়ে গেছে। এরফান সোলতানি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ১৪ জানুয়ারি ফাঁসির সাজা কার্যকর হবে।”
নরওয়েভিত্তিক হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস প্রথমে এ খবর প্রকাশ করে। সংস্থা ইরান ও কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের মুখে এবং মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার কারণে তেহরান মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
শেষ পর্যন্ত, ইরানের আদালত এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাঁকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

