মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায়, তবে সেই হামলার দায় ইসরায়েলের ওপরও বর্তাবে—এবং তার জবাব হিসেবে তেল আবিবে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমনই কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলি শামখানি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন–কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আলাদা করে দেখে না। তাদের চোখে এই দুই দেশ একই সামরিক ও রাজনৈতিক জোটের অংশ।
শামখানির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রথম আঘাত হানে, তাহলে ইসরায়েল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই যুদ্ধের অংশ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হবে ইসরায়েল। তার মতে, এই বাস্তবতা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব—দুই পক্ষেরই ভালোভাবে বোঝা উচিত।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার প্রসঙ্গেও ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেন শামখানি। তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী নয়। তবে সেই আলোচনা হতে হবে কেবল পারমাণবিক ফাইল বা কর্মসূচি ঘিরেই—কোনো ধরনের হুমকি, চাপ বা অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হলে তাতে অংশ নেবে না তেহরান।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন তিনি। শামখানি জানান, বর্তমানে ইরান যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, তা কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে—কিন্তু তার জন্য ইরানকে উপযুক্ত মূল্য বা বাস্তব প্রতিদান দিতে হবে। অর্থাৎ, একতরফা ছাড় নয়, বরং সমানুপাতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই কোনো সিদ্ধান্ত হবে।
সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শামখানি আরও কড়া সুরে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা—তা যত সীমিত পরিসরেরই হোক—একটি বিশাল সংকটে রূপ নেবে। এমন সংকট, যার পরিণতি হামলাকারীদের কল্পনারও বাইরে চলে যেতে পারে।
তার মতে, ইরানের পাল্টা জবাব কেবল অনিবার্যই নয়, বরং হবে সমানুপাতিক ও কৌশলগত। আর সেই প্রতিক্রিয়া শুধু ইরানের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যেখান থেকেই হুমকি আসবে, সেখানেই আঘাত হানতে প্রস্তুত ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, গাজা যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সামরিক তৎপরতা নিয়ে গোটা অঞ্চলেই উদ্বেগ বাড়ছে। শামখানির সতর্কবার্তা স্পষ্ট করে দিল—তেহরান আর শুধু কূটনৈতিক ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; প্রয়োজনে শক্ত প্রতিক্রিয়ায়ও পিছপা হবে না।

