আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত আইন প্রতিষ্ঠান হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ঘণ্টায় ১২৫০ মার্কিন ডলারের হারে সরকারের হয়ে মামলা পরিচালনা করবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের মঙ্গলবারের সভায় আইন ও বিচার বিভাগ এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। উক্ত প্রস্তাব উপদেষ্টা কমিটি অনুমোদন করেছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র জানায়, হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি শুধু আদালতে শুনানিতে অংশ নেবে না, বরং মামলার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা, নথিপত্র প্রস্তুতি, পরামর্শ, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণসহ অন্যান্য আইনি কাজও পরিচালনা করবে। এছাড়া আইনজীবী যদি কোনো ভ্রমণ করতে হয়, তার খরচও এই হারে ধরা হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গনে এটি বেশ চড়া ফি, তবে এস আলমের মামলা মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠানটি উপযুক্ত।”
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সভার পর সাংবাদিকদের বলেন, “এস আলম লন্ডনে একটি মামলা করেছে এবং চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে একজন আইনজীবী নিয়োগ করছি। এটি একটি বড় আর্থিক বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আবেদনটি জটিল। কোনো দেশের সরকার বা কোম্পানি ব্যবসায় বাধা দিলে আইসিএসআইডি আরবিট্রেশন করে। আমাদের জবাব দিতে হবে।”
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা গত বছরের ২৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে আইসিএসআইডিতে আবেদন জমা দেন। ২৫ নভেম্বর আদালত আবেদনটি নিবন্ধন করে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ তদন্ত চালিয়েছে। পরিবারের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযানও পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ তারা উল্লেখ করেননি।
মামলাটি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় দাখিল করা হয়েছে। এস আলমের পরিবার বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে। ২০২০ সালে তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সালিশি আদালতে মামলা মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম দাবি করেছেন তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। আমরা দেখাবো, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। মামলাটি আমরা লড়ব।”

