অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের রোবিলে অবস্থিত ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টারের সামনে স্থাপিত মহাত্মা গান্ধীর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য চুরির ঘটনা স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৪২৬ কেজি ওজনের এই ভাস্কর্যটি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অস্ট্রেলিয়া টুডে জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরেরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসে। তারা অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে ভাস্কর্যটির পায়ের অংশ কেটে নেয় এবং পরে পুরো ভাস্কর্যটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দৃশ্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানে দেখা যায়, ভাস্কর্যটির কাটা পায়ের অংশ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে এবং কেবল পায়ের তালু দুটি সেখানে রয়ে গেছে। এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল মর্মান্তিক ও বিব্রতকর। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্রোঞ্জ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ যদি সন্দেহজনকভাবে ব্রোঞ্জ বিক্রি করতে আসে, তাহলে যেন তারা দেরি না করে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশের ধারণা, চোরেরা ভাস্কর্যটি ধাতব মূল্য হিসেবেই বিক্রির চেষ্টা করতে পারে।
ইন্ডিয়ান কমিউনিটি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কমিটি সদস্য সান্তোস কুমার জানিয়েছেন, ভবনের আংশিক সিসিটিভি ফুটেজে চুরির মুহূর্তের কিছু অংশ ধরা পড়েছে। পরদিন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ভাস্কর্যটি ২০২১ সালে স্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তবে স্থাপনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, যা সে সময়ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক চুরির ঘটনায় আবারও সেই পুরোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কমিউনিটির অনেকেই আশা করছেন, দ্রুত ভাস্কর্যটি উদ্ধার হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা জনসমাগমস্থলে থাকা সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

