ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ে ইউক্রেনকে বড় ধরনের মানবিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে কিয়েভ ও মস্কো—উভয় পক্ষই নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে।
এই যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরই অংশ হিসেবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রুশ ও ইউক্রেনীয় আলোচকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠক করেছেন। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টিভ উইটকফ জানান, আলোচনা ছিল “বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ”, যদিও এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে কাজ বাকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শান্তি আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড। ক্রেমলিন দাবি করছে, পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতে আসেনি এবং ইউক্রেনকে অবশিষ্ট এলাকা ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দিচ্ছে মস্কো—যা কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

