মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হার্ভার্ডের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘উদারপন্থি উগ্রবাদে’ আক্রান্ত।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এমন রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সহায়ক নয়।
পেন্টাগনের সিদ্ধান্তে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল ও বিজনেস স্কুলে চলমান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সরাসরি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফেলোস প্রোগ্রাম’। এই কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিতেন।
হেগসেথের অভিযোগ, হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরার বদলে তা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তিনি বলেন, এতে প্রথাগত মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা হামাসপন্থি আন্দোলন এবং ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, কয়েক দশক ধরে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এবং পেন্টাগনের অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত হার্ভার্ডের জন্য শুধু ভাবমূর্তির ক্ষতি নয়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের এই চাপকে নতুন এক ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

