সৌদি আরব সরকার দেশের লাখ লাখ উটের জন্য বিশেষ ‘পাসপোর্ট’ ইস্যু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উটের বিশাল পালের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এএফপি
সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পাসপোর্ট ব্যবস্থা উট পালন খাতে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াবে এবং উটসংক্রান্ত একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরিতে সহায়তা করবে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পাসপোর্টের নমুনায় সবুজ রঙের কভারে সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক এবং সোনালি উটের ছবি দেখা যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আল আখবারিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই পাসপোর্টের মাধ্যমে উট কেনাবেচা ও পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি উটের মালিকানা নিশ্চিত করবে এবং মালিকদের অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উট ব্যবসার লেনদেনকে দাপ্তরিক নথির আওতায় আনা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে উটের সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। আরব উপদ্বীপে হাজার বছর ধরে উট পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যাতায়াতের পাশাপাশি উট মালিকের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। বর্তমানে সৌদি আরবে উট একটি লাভজনক বাণিজ্যিক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
দেশটিতে প্রতিবছর উটের বড় উৎসব ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে উটপ্রেমীরা তাঁদের প্রিয় উটের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। তবে প্রতিযোগিতায় জয়ের জন্য কৃত্রিম রূপচর্চা বা অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয়োজকেরা এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। উটের ঠোঁট বা কুঁজে কৃত্রিম পরিবর্তন আনার মতো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
উট আরব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, সৌদি আরবের পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা ঘোড়া ও উটের প্রায় ৭ হাজার বছরের পুরোনো প্রমাণসাইজের ভাস্কর্য আজও সেই ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।

