যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে। এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ১৮ শতাংশে সীমিত হবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতীয় পণ্যে আরোপিত অতিরিক্ত বা শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করার পর শুক্রবার দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত চুক্তির দিকসমূহ প্রকাশিত হয়।
চুক্তির প্রধান দশটি দিক হলো—
১. ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্য এবং অনেক কৃষি ও খাদ্যপণ্যের শুল্ক কমাবে বা পুরোপুরি তুলে নেবে। এর মধ্যে আছে পশুখাদ্য, বিভিন্ন শস্য, বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন, স্পিরিটসহ একাধিক পণ্য।
২. অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখবে। এই পণ্যের মধ্যে আছে টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক, রাবার, জৈব রাসায়নিক, গৃহসজ্জা সামগ্রী, হস্তশিল্প ও যন্ত্রপাতি।
৩. অন্তর্বর্তী চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরা, বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশসহ অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক তুলে নেওয়া হবে।
৪. বিশেষভাবে ভারত থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিমান ও যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে আলাদা শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে।
৫. বাণিজ্যকে জটিল করে তোলা অশুল্ক বাধা দূর করতে দুই দেশ একসাথে কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য ভারতীয় আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। এতে এসব পণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগে যে বিলম্ব ও সীমাবদ্ধতা ছিল তা দূর হবে।
৭. একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর বিদ্যমান অশুল্ক বাধা ধাপে ধাপে সরানো হবে।
৮. চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগামী পাঁচ বছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কেনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তিপণ্য, কয়লা ইত্যাদি।
৯. উন্নত প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের জন্য জিপিইউসহ উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
১০. ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরও কমানোর অনুরোধ বিবেচনা করা হবে। এছাড়া পণ্যের নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণের বিষয়েও চুক্তি হবে।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংবেদনশীল প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে এবং ‘তৃতীয় পক্ষের অ-বাজারভিত্তিক নীতি’ মোকাবিলায় দুই দেশ সহযোগিতায় একমত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ঝুলে ছিল, মূলত কৃষি, ডিজিটাল বাণিজ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বাজার প্রবেশাধিকারের বিরোধের কারণে। তবে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যকরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো কৌশলগত উদ্বেগ চুক্তি আলোচনায় নতুন গতি এনেছে।
এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা আনতে পারে এবং আগামীতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

