অন্যান্য দেশের তুলনায় কম মূল্যে সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়ায় পাকিস্তান থেকে মালবাহী ওয়াগন ও বগি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সূত্র: দ্য ডন
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং লাহোরের মুঘলপুরায় অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ট্রেনের বগি, ওয়াগনসহ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম উৎপাদনের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।
ওয়ার্কশপের প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে পুরো ওয়ার্কশপের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পাকিস্তান রেলওয়ের চলমান প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পাশাপাশি ওয়ার্কশপের কাজকর্ম তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও তাদের দেখানো হয়।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলকে মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সফরকালে বলেন, এই পরিদর্শন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি এবং আর্জেন্টিনাসহ চারটি দেশে ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে।
পাকিস্তান রেলওয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাসির খালিলি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রেলওয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল ভবিষ্যতে পাকিস্তান সফর করবে। সে সফরে তারা প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন–কে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে এর মধ্যেই ঢাকা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।”
এদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে রেলওয়ে টু রেলওয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা জোরদার হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

