জাপানে আজ রোববার আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মাথায় এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সূত্র: বিবিসি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী এই নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে পারে।
জাপানে গত ৩৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম শীতের মধ্যবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটিতে সাধারণত অনুকূল আবহাওয়ার সময় নির্বাচন আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব নেওয়ার পর দ্রুত জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করতে তাকাইচি আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন।
জরিপে দেখা গেছে, তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপানিজ ইনোভেশন পার্টির জোট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে মোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে।
দুর্নীতি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে আগের জোটসঙ্গীদের পাশাপাশি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এই নির্বাচনকে এলডিপির জন্য রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে এর আগে এলডিপির দুই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাকাইচি তুলনামূলকভাবে বেশি জনপ্রিয় নেতা হিসেবে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তাকাইচি করছাড় ও ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে সরকারি ঋণের পরিমাণ উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ায় তার অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি জাপানের দীর্ঘদিনের ধীরগতির অর্থনীতিকে আদৌ গতি দেবে কি না, তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এই নির্বাচনে এলডিপির পক্ষে ইতিবাচক ফল আনতে পারে। তবে তীব্র তুষারপাত ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম। প্রতিকূল আবহাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার নিইগাতাসহ জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী তুষারপাত হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রোববার সকাল পর্যন্ত ৩৭টি ট্রেন লাইন ও ৫৮টি ফেরি রুট বন্ধ ছিল। পাশাপাশি ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
জরিপে আরো দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকাইচি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। গত অক্টোবর মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সরকার একাধিক জরিপে ৭০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়েছে।

