মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক মোতায়েন নিয়ে কোনো ভীতি নেই—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি আবারও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও দেশটি তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানে আয়োজিত একটি ফোরামে এসব কথা বলেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক।
ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চড়া মূল্য দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মধ্যেও দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে সরে আসবে না।”
এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন আব্বাস আরাঘচি। ওই বৈঠকের দুই দিন পরই ইরানের অবস্থান আরও কঠোর ভাষায় তুলে ধরলেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন—কেন আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে এতটা অনড়? কেন যুদ্ধের হুমকির মধ্যেও আমরা পিছু হটছি না? কারণ খুব সহজ—আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জাতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই।”
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও সামরিক উপস্থিতি বাড়লেও ইরান এতে ভীত নয়। বরং ইরান নিজের সক্ষমতা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন একটি চুক্তিতে বাধ্য করতে হুমকি দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগেই ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল। এই মাত্রা অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামের খুব কাছাকাছি, যদিও তা এখনো পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির স্তরে পৌঁছায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশের বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) গত মার্চে জানিয়েছে, ইরান এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
এই বাস্তবতায় ইরানের কঠোর বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কোনো আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয়। বরং চাপ যতই বাড়ুক, নিজেদের অধিকার রক্ষায় অনড় থাকার বার্তাই বিশ্বকে দিতে চায় ইরান।

