চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ, কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এমন সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বছরের শেষের দিকে শি জিন পিং হোয়াইট হাউসে আসতে পারেন। সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ গতকাল রোববার প্রচারিত হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, তিনি বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দেশের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ভালো।”
এই সফরটি হবে দুই নেতার ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ। কারণ এর আগেই ২০২৬ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের সেই সফরের কয়েক মাস পরই পাল্টা সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন শি জিন পিং।
এর মধ্যেই গত বুধবার ট্রাম্প ও শির মধ্যে একটি দীর্ঘ ফোনালাপ হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান গতিপথ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফোনালাপে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও আলোচনায় উঠে আসে তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরান পরিস্থিতি। ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।”
তবে সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি থাকলেও বাস্তবতায় উত্তেজনার জায়গাগুলো এখনো স্পষ্ট। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে জানা যায়, ফোনালাপে শি জিন পিং তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সমস্যাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ ও ধাপে ধাপে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে শি বলেন, পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলেই দুই দেশ সামনে এগোনোর সঠিক পথ খুঁজে পাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছেন। বিশেষ করে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতে আরোপিত কঠোর শুল্কনীতি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এই শুল্ক যুদ্ধই দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বেইজিং এখন পর্যন্ত এই নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে একদিকে সম্পর্ক ভালো রাখার বার্তা, অন্যদিকে কৌশলগত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনাস্থা—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই শি জিন পিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

