চীন গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে বেইজিং। চীনের ভাষায়, এই অভিযোগ “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার”। বরং নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে এমন দাবি তুলছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে দেশটি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ওয়াশিংটনের এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এর আগে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো চীনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন।
ডিন্যানো দাবি করেন, চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ২০২০ সালের ২২ জুনের একটি পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরীক্ষায় শত শত টন বিস্ফোরণক্ষমতার প্রস্তুতি ছিল এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাটি ‘ডিকাপলিং’ নামের একটি কৌশলে পরিচালিত হয়েছিল, যার ফলে ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রে এর প্রভাব ধরা পড়েনি।
তবে এএফপিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বেইজিংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার পক্ষে আন্তর্জাতিক অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে।
চীন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে “অবিলম্বে এ ধরনের উসকানিমূলক ও দায়িত্বহীন আচরণ বন্ধ করার” আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘সমতার ভিত্তিতে’ যুক্তরাষ্ট্র আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে পারে। যদিও তিনি কোন ধরনের পরীক্ষা চালানোর কথা বলেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
ডিন্যানোর মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব তুলে ধরছিলেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নতুন সীমা আরোপের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরই মধ্যে ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের দুই বৃহৎ পারমাণবিক শক্তি কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর সুযোগ পেল।
অন্যদিকে, চীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এই মুহূর্তে তারা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।

