যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সর্বশেষ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। লন্ডন ইসরায়েলকে “অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার” করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাজ্য বলেছে, এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনিরা সীমিত স্বশাসন হারাবেন, বসতি স্থাপনকারীরা জমি অধিগ্রহণে সুবিধা পাবেন এবং সমস্ত ফিলিস্তিনি শহরের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হবে। “ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের একতরফা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য,” লন্ডন জানিয়েছে।
একই সময়ে, হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণের বিরোধিতা “স্পষ্টভাবে” জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রবিবার, ইসরায়েল পশ্চিম তীরের প্রশাসনে বিস্তৃত পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এটি কার্যত সংযুক্তির সমতুল্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পদক্ষেপগুলো অসলো চুক্তির কাঠামোর অবসান ঘটাবে, যা ১৯৯৩ সাল থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভূখণ্ডের কিছু অংশে সীমিত স্বশাসন প্রদান করে আসছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘও এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই আট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও পদক্ষেপটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর লক্ষ্য পশ্চিম তীরে “অবৈধ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপানো।”
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা সর্বাধিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, শুধু জানুয়ারি মাসেই প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জর্ডান উপত্যকার রাস আইন আল-আউজার এলাকায় ১৩০টি পরিবারসহ সম্পূর্ণ পশুপালক সম্প্রদায় বসতি স্থাপনকারীদের হয়রানির কারণে স্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

