ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একাই প্রায় ৮ হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর মুখপাত্র প্রাসেত্যো হাদি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, গাজায় সম্ভাব্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে বাহিনীর ম্যান্ডেট, দায়িত্ব এবং কার্যক্রমের এলাকা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত বছর ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছিল, প্রয়োজনে গাজার জন্য ২০ হাজার শান্তিরক্ষী সেনা প্রস্তুত রাখা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে একটি ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে, যেখানে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার সেনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
প্রাসেত্যো হাদি বলেন, “আমরা এখন কেবল প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যদি কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তখন যেন দ্রুত শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানো যায়—সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
তিনি আরও জানান, বোর্ড অব পিসের স্থায়ী সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়ে এক বিলিয়ন ডলার প্রদানের আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী জাকার্তায় দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সেনাপ্রধান জানান, গাজায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

