দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা চীনা অস্ত্রের বিকল্প হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এ তথ্য জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমে যায়। এর পর চীন ঢাকায় নিজেদের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বহুমুখী এই যুদ্ধবিমানটি চীনের সহযোগিতায় তৈরি।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আমাদের জন্য উদ্বেগের। নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিস্তারিত না জানালেও তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা উন্নত সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করছে এবং এতে উভয় দেশই উপকৃত হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বেইজিং স্পষ্ট করেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
বাণিজ্য কূটনীতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে তারা চান নতুন সরকার দ্রুত এমন পরিবেশ নিশ্চিত করুক যাতে দেশটি ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’— এ বার্তা স্পষ্ট হয়।
তিনি বলেন, “আমরা বাণিজ্য কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্জিত অগ্রগতি ধরে রেখে নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।”
মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন বহু বছর ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভোক্তা ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি নেই। উচ্চ করহার ও মুনাফা প্রত্যাবাসনে জটিলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কোনো আউটলেট চালু হয়নি।

