সৌদি আরবের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে অবগত— এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানি। সূত্র: আরটি
মঙ্গলবার রুশ টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলছি যে সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। এমনকি ইসরায়েলও বিষয়টি জানে।”
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সংঘটিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে কানানি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আড়াল থেকে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে।
তাঁর দাবি, উদ্দেশ্য ছিল কেবল সরকার পরিবর্তন নয় বরং ইরানকে ভেঙে ফেলা এবং সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সেই উত্তেজনা আরো বাড়ে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হলে সেই হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি।
একই সময়ে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক রণতরী টহল দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিকে ইরানের জন্য অস্বস্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত জুনে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক চলাকালেই ইসরায়েল হামলা চালায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও তাতে যোগ দেয়।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন আরব সাগরে পৌঁছানোর পরদিনই হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান এবং ওই অঞ্চলের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে হুসেইন কানানির ভাষ্য, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান প্রথমেই মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা নাও চালাতে পারে। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন হামলা করলে তেহরান সরাসরি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য নাও করতে পারে। বরং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হতে পারে।”
আরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আসলে মুরগির খেলা খেলছে। তারা বুঝতে পারছে না এই খেলায় ইরান তাদের চেয়ে দশ ধাপ এগিয়ে।”

