রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে হিজরি সনের এই মহিমান্বিত মাস। তবে রোজা ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে আগেভাগেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। রমজান মাসে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক লাখ দিরহাম, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, রমজানে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কঠোর নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে লিখিত সতর্কতা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে।
তবে অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে ৫০০ দিরহাম থেকে এক লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বারবার আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি বলেন, কিছু অসাধু বিক্রেতা আইন ফাঁকি দিতে সরবরাহ ও পণ্যের তথ্য গোপন বা বিকৃত করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এই ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবর্তিত নতুন মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী, ভোক্তারা ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, ডাল, পাউরুটি, গম ও চালসহ ৯টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের অনুমোদনের অন্তত ছয় মাস পার না হলে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এর মাধ্যমে বাজারে কারসাজি ও সিন্ডিকেট ঠেকিয়ে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

