আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক মেডিকেল প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনি ইতোমধ্যে নিজের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানিয়ে আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন করেন ইমরান খান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিয়ে আদালত আদিয়ালা কারাগারে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে আদালতের প্রতিনিধি (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবেও সালমান সাফদারকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।
কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মেডিকেল টিম যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়, তাতে বলা হয়— ইমরান খান রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই তার চোখের দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমতে থাকে। বর্তমানে তার চোখের মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি কার্যকর রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান সাধারণত নিজের শারীরিক সমস্যার কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনীহা প্রকাশ করতেন। তবে চোখের সমস্যা বাড়তে থাকায় তিনি একাধিকবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তদারকি পাননি তিনি।
আইনজীবী সালমান সাফদার জানান, ইমরানের চোখ দিয়ে প্রায়ই পানি পড়ছে এবং কথা বলার সময় তাকে বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ইমরান অভিযোগ করেছেন, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, কিংবদন্তি ক্রিকেটার থেকে রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসা ইমরান খান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান তিনি।
এরপর থেকেই একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়েন ইমরান খান। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে তিনি আদিয়ালা কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন।

