ক্যারিবিয়ান সাগরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ এই অভিযানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে এই আঘাত হেনেছে। তবে ঘটনাটি নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—এটি কি সত্যিই মাদকবিরোধী অভিযান, নাকি সমুদ্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড?
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এই হামলার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেটি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় তোলে।
এই অভিযানের নির্দেশ দেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই ধরনের সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রায় ৪০টি নৌযানকে লক্ষ্য করে ৩৮টি হামলা চালানো হয়েছে। অর্থাৎ অভিযানটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ধারাবাহিক এবং সুপরিকল্পিত।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পদক্ষেপকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না করে সরাসরি সমুদ্রে গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তারা এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং এর আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, এই ধরনের ‘কাইনেটিক স্ট্রাইক’ বা সরাসরি সামরিক আঘাতের ফলে মাদক কারবারিরা ভয় পেয়ে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তার মতে, এই কৌশল কার্যকর এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, সমুদ্রে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানে অনেক সময় নিরপরাধ মৎস্যজীবী কিংবা সাধারণ মানুষও প্রাণ হারাচ্ছেন। সাগরে থাকা প্রতিটি নৌযানই যে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, তার নিশ্চয়তা কীভাবে পাওয়া যায়—এই প্রশ্নও উঠছে।

