মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তনকেই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ বলে মন্তব্য করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণার মধ্যেই তিনি এ কথা বলেন। সূত্র: এএফপি
শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তন চান কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘মনে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে অপসারণের পক্ষে ট্রাম্পের এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য।
এমন সময়ে তিনি এ অবস্থান জানালেন, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন চুক্তিতে তেহরানকে রাজি করানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর আগে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কোনো চুক্তি করতে না পারি তবে আমাদের এটার প্রয়োজন পড়বে।’
বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগর এলাকায় অবস্থান করা এই যুদ্ধজাহাজটি ভেনেজুয়েলায় অভিযান ও দেশটির নেতা নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে ওই অঞ্চলে ছিল। অন্যদিকে আরেক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি শুধু উল্লেখ করেন, ‘এমন মানুষ আছেন।’ এর আগে সরকার পরিবর্তনের প্রশ্নে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি এবং বলেছিলেন, এমন পদক্ষেপ বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে খামেনির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হুমকিও দিয়ে আসছিলেন।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা দমনে কঠোর অভিযান চালায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ওই অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। পরে অবশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে নির্বাসিত পাহলভি বলেন, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে মানবিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি দেশ-বিদেশে থাকা ইরানিদের পুনরায় আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবু গত সপ্তাহে ওমানে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। নতুন করে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান ধারাবাহিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

