রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির বার্লিন শহরে আয়োজিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত উপাদানের নমুনা পরীক্ষা করে তারা এবং তাদের মিত্ররা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, “শুধুমাত্র রুশ সরকারের কাছেই এ ধরনের বিষ প্রয়োগের সুযোগ ছিল।”
নাভালনি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় দুই বছর আগে মারা যান।
রুশ বার্তাসংস্থা তাস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের এই অভিযোগকে রাশিয়া সরকার প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নাভালনির দেহে ‘এপিবাটিডিন’ নামের একটি বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে—যা সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে রাশিয়া কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সরকার নাভালনিকে রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করত। এমন বিরল ও প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া রাষ্ট্র হিসেবে তাদের সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি আতঙ্কের মাত্রা প্রকাশ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইভেট কুপার বলেন, “সাইবেরিয়ার দুর্গম কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাভালনির ওপর এই প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগের মতো সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—এই তিনটি কেবল রাশিয়া সরকারেরই ছিল। তাই তার মৃত্যুর দায় আমরা তাদের ওপরই আরোপ করছি।”
তিনি আরো দাবি করেন, এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত বন্য ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বন্দি বা পোষা ব্যাঙের শরীরে এই বিষ তৈরি হয় না এবং রাশিয়ায় স্বাভাবিকভাবে এটি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে নাভালনির দেহে এ উপাদান উপস্থিতির পেছনে স্বাভাবিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

