যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন হামলায় অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামলায় ৫ জন এবং উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় তাঁবুতে আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েল ১,৫০০ বারের বেশি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯১ জন নিহত হয়েছেন। গাজায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন।
লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সেখানে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘ বারবার দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ এখনও এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি—যেখানে জীবন, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

