পুয়ের্তো রিকান সংগীততারকা ব্যাড বানি–এর সুপার বোল হাফটাইম পরিবেশনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সমালোচনা রিপাবলিকান ঘরানার কিছু হিস্পানিক কৌশলবিদ, রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, নভেম্বরের কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে ল্যাটিনো ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন আরো কমতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
২০২৪ সালের পুনর্নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ে হিস্পানিক ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রচারণাকালে উত্তেজক বক্তব্য দেওয়া সত্ত্বেও- এমনকি এক কৌতুকাভিনেতা ট্রাম্পের সমাবেশে মার্কিন ভূখণ্ড পুয়ের্তো রিকোকে “আবর্জনার ভাসমান দ্বীপ” বলে উল্লেখ করার পরও এই সমর্থন বজায় ছিল। তবে ক্রমাগত উচ্চমূল্য, শুল্ক ইস্যুতে অসন্তোষ এবং প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ নীতির কারণে সেই সমর্থন নরম হতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের কিছু কট্টর ল্যাটিনো মিত্র বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের আক্রমণকে রাজনৈতিক ভুল হিসেবে দেখছেন।
তাঁদের মতে, ল্যাটিনো সংস্কৃতির একটি বিরল প্রাইম-টাইম উদযাপন হিসেবে দেখা এই পরিবেশনাকে লক্ষ্যবস্তু করা দলটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন তারা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে তাদের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করছে। ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা এবং কলোরাডোসহ হিস্পানিক-প্রধান জেলাগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামনে রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ভিয়ানকা রদ্রিগেজ বলেন, “এটি আমাদের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। এটি সাংস্কৃতিকভাবে বাছাই করা যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না।” পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত রদ্রিগেজ ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির উপ-হিস্পানিক যোগাযোগ পরিচালক ছিলেন এবং নিজেকে ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন।
৮ ফেব্রুয়ারির হাফটাইম অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে ট্রাম্প একে “আমেরিকার মহত্ত্বের প্রতি অবমাননা” এবং দেশের জন্য “গালে চপেটাঘাত” বলে মন্তব্য করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এই লোকটি যা বলছে তার একটি শব্দও কেউ বুঝতে পারছে না” এবং পরিবেশনাটিকে “ঘৃণ্য” ও শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বলে আখ্যা দেন।
দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমালোচক রিপাবলিকান কৌশলবিদ মাইক মাদ্রিদ বলেন, “দলের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করতে দেখা অবিশ্বাস্য।” তিনি ল্যাটিনো ভোটের প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
হিস্পানিকরা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম জাতিগত সংখ্যালঘু, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। নির্দলীয় পিউ রিসার্চ সেন্টার–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ হিস্পানিক ভোট পান, যা কোনো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ এবং ২০২০ সালের ৩৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
তবে নভেম্বরে পাঁচ হাজারের বেশি ল্যাটিনো ভোটারের ওপর পরিচালিত পিউ–এর এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থনকারীদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ১২ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় তাঁকে ভোট দেওয়া ল্যাটিনোদের ৯৩ শতাংশ তাঁর কাজকে সমর্থন করলেও দশ মাস পর সেই হার কমে ৮১ শতাংশে নেমে আসে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং জো বাইডেনের আমলের মুদ্রাস্ফীতি সংকট মোকাবেলার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ট্রাম্প ২০২৪ সালে ল্যাটিনো ভোটারদের ঐতিহাসিক সমর্থন পেয়েছিলেন এবং এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন হিস্পানিক বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি জাভিয়ের পালোমারেজ বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনে করছেন দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাড বানি নিয়ে মন্তব্য এই হতাশা আরো বাড়াতে পারে।

