বিশ্বের মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র ও প্রতীক্ষিত মাস রমজান শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো দেশে রমজান শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি। চাঁদ দেখার এই পার্থক্যের কারণেই বিশ্বজুড়ে একই দিনে রমজান শুরু হয় না।
তবে শুধু চাঁদ দেখাই নয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণেও এ বছর বিশ্বের সব দেশে রোজার সময় এক হবে না। কোথাও রোজা হবে তুলনামূলক কম সময়ের, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে সিয়াম পালন করতে হবে।
ইসলামি বর্ষপঞ্জি চাঁদের ওপর নির্ভরশীল। সেই হিসেবে এবার রমজান প্রায় ১০ দিন এগিয়ে শুরু হচ্ছে। ফলে ২০২৬ সালে রমজান পড়ছে শীতের শেষভাগে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এ বছর বিভিন্ন দেশে রোজার সময় কিছুটা কম হবে। সর্বনিম্ন প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা পালন করতে হতে পারে।
পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হয়। তার প্রভাব পড়ে রোজার সময়েও।
উত্তর গোলার্ধে এ বছর রোজার সময় আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা হতে পারে। তবে দিন বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় ধীরে ধীরে বাড়বে।
অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে রোজার সময় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামিক ফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা পালন করবে নিউজিল্যান্ডের মুসলিমরা। তালিকায় এরপর রয়েছে চিলি, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
অন্যদিকে সবচেয়ে স্বল্প সময়ের রোজা পালিত হবে ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে।
নিরক্ষরেখা থেকে কোনো দেশ যত দূরে, সেখানে দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য তত বেশি হয়। তাই মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে রোজার সময়ের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরব দেশগুলোতে এ বছর রোজার সময় গড়ে সাড়ে ১২ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে রোজার সময় থাকবে প্রায় পৌনে ১৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে। অর্থাৎ সময়ের দিক থেকে এবারের রোজা তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শেষভাগে রমজান পড়ায় এবারের আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকবে। এতে দীর্ঘ সময় সিয়াম পালনেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
মুসলিম প্রধান দেশগুলোতেও এবারের রমজান তুলনামূলক আরামদায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বজুড়ে রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সময়ের ভিন্নতা থাকলেও আত্মসংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির বার্তা এক ও অভিন্ন।
এখন অপেক্ষা শুধু পবিত্র চাঁদের দেখা পাওয়ার।

