দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালে তাঁর সামরিক আইন জারির চেষ্টাকে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার এ সাজা দেওয়া হয়। সূত্র: এএফপি
ইউন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারি করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ নির্মূল করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ইউনের সামরিক আইন জারির সেই চেষ্টা মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এশিয়ায় গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দেশটিতে প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আদালত বলেন, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে (পার্লামেন্ট) থাকা নিজের বিপুলসংখ্যক সমালোচককে ‘অকেজো’ করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন।
বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, সামরিক আইন জারির ঘোষণার ফলে সমাজকে বড় ধরনের মূল্য চুকাতে হয়েছে। বিবাদী এই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত, তেমন কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
কৌঁসুলিরা বিদ্রোহের অভিযোগে ইউনের কঠোরতম সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রয়েছে। দেশটিতে ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
সামরিক আইন জারির সেই সংকটকালে প্রেসিডেন্ট ইউন খুব অজনপ্রিয় ছিলেন। পার্লামেন্টে তাঁর দল ছিল কোণঠাসা। পার্লামেন্টের ভোটে তাঁর প্রশাসনের বাজেট আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অভিশংসন করা হয়েছিল।
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহায়তায় পার্লামেন্ট ভবন দখল এবং সমালোচকদের গ্রেপ্তার করতে সেনা মোতায়েন করেছিলেন ইউন।
বিচারক বলেছেন, বিরোধীরা ‘প্রেসিডেন্টকে সফলভাবে অকার্যকর করে দিতে পারে’, এই ধারণায় ইউন ‘আচ্ছন্ন’ হয়ে পড়েছিলেন।

