মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ বাইশ ধরনের অদৃশ্য সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে কয়েকদিন অবস্থানের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এসব বিমান ওই অঞ্চলের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
উড়ান পর্যবেক্ষণ তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বিমানবাহিনীর লেকেনহেথ ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমানগুলো উড্ডয়ন করেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান।
গত সপ্তাহে এসব বিমান লেকেনহেথে পৌঁছায় এবং কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের কারিগরি সমস্যার কারণে সেগুলো সেখানে অবতরণ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বড় বহর মোতায়েন করেছে। সেই সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার করতেই অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানগুলো পাঠানো হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে উড়তে দেখা গেছে। এর মধ্যে এফ পঁয়ত্রিশ, এফ বাইশ, এফ পনেরো ও এফ ষোল ধরনের বিমান রয়েছে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ৩০ সদস্যের একটি দল জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে এসব যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলের দিকে যাওয়া শুরু করে। তাদের সঙ্গে জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার ও কয়েকশ পণ্যবাহী বিমানও যেতে দেখা গেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইরানের কাছাকাছি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা উপসাগর নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ইরান থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের নির্ধারিত শর্ত মেনে একটি চুক্তিতে পৌঁছাক। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— পরমাণু কর্মসূচি বাতিল, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানো এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনকে সহায়তা বন্ধ করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার সতর্ক করেছেন, শর্ত মানা না হলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি রণতরীসহ বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।


