মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানের সুপ্রশিক্ষিত ও প্রভাবশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী—আইআরজিসির (Islamic Revolutionary Guard Corps) সদর দপ্তর ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেই একই দাবি জানায় ইসরায়েল।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সামরিক অভিযানের দ্বিতীয় দিনেই এই বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক নাটকীয় বিবৃতিতে জানায়,
“আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং আইআরজিসির কাছে এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী গত ৪৭ বছরে হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা হত্যা করেছে। গতকাল এক বড় আকারের মার্কিন হামলায় ওই সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।”
এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সামরিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট দিয়ে জানায়, তারা “ইরানের সামরিক সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে”।
আইডিএফ দাবি করেছে, সেখানে ইরানের শাসকদের অনুগত সেনারা উপস্থিত ছিল। পাশাপাশি তারা জানায়, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের সদরদপ্তর, আইআরজিসি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“ইরানের জঙ্গি শাসকের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে।”
পৃথক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইআরজিসি দীর্ঘদিন ধরে শুধু সামরিক শক্তিই নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও পরিচিত। ফলে এর শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগেই আইআরজিসি দাবি করেছিল, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সদর দপ্তর ধ্বংসের দাবি এবং শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার খবর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। যদি ইরান পাল্টা আরও বড় আকারে প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আইআরজিসি ইরানের সামরিক শক্তির প্রতীক এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার। এর সদর দপ্তর ধ্বংস ও শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতের দাবি সত্য হলে তা ইরানের কৌশলগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের সংঘাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দ্রুত আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন—এটি কি সীমিত সামরিক অভিযানেই শেষ হবে, নাকি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে?

