ইরানের সামরিক কৌশলের পেছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘গোপন হাত’ কাজ করছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরবিলে পশ্চিমা বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে ব্রিটিশ সামরিক সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর হিলি জানান, ইরান ও তাদের ছায়াগোষ্ঠীরা ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানভাবে ‘রুশ কৌশল’ গ্রহণ করছে।
ব্রিটিশ জয়েন্ট অপারেশনস-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি জানান, রাশিয়া সম্ভবত ইরান ও তাদের সহযোগীদের ড্রোন মোতায়েনের বিষয়ে কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরানি ড্রোন চালকরা এখন অনেক নিচ দিয়ে ড্রোন উড়োচ্ছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং এটি আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে।

বুধবার রাতে ইরবিলে একটি পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটিতে বেশ কিছু ড্রোন আঘাত হানে, যেখানে ব্রিটিশ সেনাসদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্টার-ড্রোন টিম দুটি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।
এই ঘটনায় কোনও ব্রিটিশ সেনার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি সাংবাদিকদের বলেন, “পুতিনের গোপন হাত যে ইরানের এই কৌশলের পেছনে কাজ করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কারণ, বর্তমানে তেলের আকাশচুম্বী দাম থেকে যদি কোনও বিশ্বনেতা লাভবান হন, তবে তিনি পুতিন। তেলের বাড়তি দাম তার ইউক্রেইন যুদ্ধের জন্য তহবিল জোগান দিচ্ছে।”
তেহরানের অনমনীয় অবস্থান:
বৃহস্পতিবার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে খামেনির স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য না দিলেও অঙ্গীকার করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, এই যুদ্ধ বিশ্ব বাজারে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিপর্যয়’ তৈরি করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভ্রুক্ষেপ করছেন না।
তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক হওয়ায় “আমরা অনেক অর্থ আয় করছি।”
এর জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এক পোস্টে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু কয়েকটি টুইট দিয়ে জেতা যায় না। আপনার এই মারাত্মক ভুল হিসাবের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষ্যান্ত হব না।”
ওদিকে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বা সমুদ্র-খনি স্থাপনের চেষ্টা করছে বলে জোরালো খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়। তিনি আরও জানান, মাইন শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাজ্যের কিছু ‘অটোনমাস সিস্টেম’ বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে থাকলেও এইচএমএস মিডলটন নামক জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছে।
বুধবার রাতে ইরাক উপকূলের কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইরান এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, আন্ডারওয়াটার ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তেলের ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখন পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই, তবে মাসের শেষ দিকে এটি সম্ভব হতে পারে।

