Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মার্চ 4, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ক্ষমতার সঙ্গে সম্পদের অদ্ভুত যোগসূত্র!
    মতামত

    ক্ষমতার সঙ্গে সম্পদের অদ্ভুত যোগসূত্র!

    এফ. আর. ইমরানডিসেম্বর 7, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    প্রতীকি ছবি/ প্রথম আলো
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    এটি এখন প্রায় নিশ্চিত যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে একটি গণভোট। নাগরিকদের একটি বিরাট অংশের জন্য নিঃসন্দেহে এসবই সুসংবাদ।

    তবে অনেকের মনেই শঙ্কা রয়েছে, কাদের নিয়ে আগামী সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। আবার কি আগামী সংসদ বা সংস্কার পরিষদে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তির সমারোহ ঘটবে, যাঁরা ক্ষমতাকে অর্থবিত্তের মালিক হওয়া ‘জাদুর কাঠি’ হিসেবে ব্যবহার করবেন।

    আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। দৃষ্টান্ত হিসেবে একটি পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা যাক। অনেক পাঠকের মনে থাকার কথা যে ২০০৮ সালের জুন মাসে চারটি পুরোনো সিটি করপোরেশনের—বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট—নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়ের উৎস, অতীত ও বর্তমান মামলার বিবরণী, প্রার্থীর নিজের এবং প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়দেনার তথ্য হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার বিধান কার্যকর করা হয়।

    ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রার্থীদের এসব তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব তথ্য প্রদানের এবং প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করা, যাতে তাঁরা জেনে-শুনে-বুঝে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

    এসব নির্বাচনের সব কটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন—বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক, রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সিলেটে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জয়লাভ করেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা এগুলোতে পরাজিত হন। বরিশালে পরাজিত হন আহসান হাবীব কামাল, খুলনায় মো. মনিরুজ্জামান, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন ও সিলেটে পরাজিত হন সালাউদ্দিন রিমন।

    পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালের ১৫ জুন তারিখে এসব সিটি করপোরেশনে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে মনোনীত সব প্রার্থীই ২০১৩ সালেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যদিও সিলেটে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সব প্রার্থী জয়ী হন। এবারও প্রার্থীদের হলফনামার মাধ্যমে সাত ধরনের তথ্য জমা দিতে হয়।

    প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, দুই নির্বাচনে জয়ী-পরাজিত আটজন মেয়র পদপ্রার্থীর সবাই ছিলেন ব্যবসায়ী। তবে তালুকদার আবদুল খালেক নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যবসায়ী হয়েছেন—তিনি ২০০৮ সালে প্রদত্ত হলফনামায় পেশা হিসেবে ‘বর্তমানে কোনো ব্যবসা নেই’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    হলফনামার তথ্য থেকে আরও লক্ষণীয় যে চারজন বিদায়ী মেয়রের প্রত্যেকেরই নিজের এবং নির্ভরশীলদের আয় তাঁদের ক্ষমতায় থাকার সময় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার তালুকদার আবদুল খালেকের ও তাঁর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে ৩,৬২,০০০ টাকা থেকে ৫,৩২,৬৬,৯৭৭ টাকা বা ১৪,৬১৫ শতাংশ। বরিশালের শওকত হোসেন হিরণ এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে ৫,৮০,২৫০ টাকা থেকে ৩,৪৯,১১,০৩০ টাকা বা ৫,৯১৬ শতাংশ। রাজশাহীর এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও তাঁর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে ২,৪৪,০০০ টাকা থেকে ৫৭,৭৫,৭৭২ টাকা বা ২,৩০৮ শতাংশ। সিলেটের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে ২,১০,০০০ টাকা থেকে ১৫,৪৯,৯৮৮ টাকা বা ৬৩৮ শতাংশ—‘সম্মানী’ হিসেবে প্রাপ্ত নিজের আয় হলফনামায় দেখানো হয়নি বলে এটি অপেক্ষাকৃত কম। সর্বসাকল্যে চারজন মেয়র ও তাঁদের নির্ভরশীলদের গড় আয় বেড়েছে ৩,৪৯,০৬৩ টাকা থেকে ২,৩৯,০০,৯৮১ টাকা বা ৬,৭৪৭ শতাংশ।

    অন্যদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত তিন প্রধান প্রার্থীর মধ্যে দুজন এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে এবং একজনের কমেছে। বরিশালের আহসান হাবীব কামালের আয় বেড়েছে ২০০৮ সালের ৭,০৮,০০০ টাকা থেকে ২০১৩ সালে ৯,৩০,০০০ টাকা বা ৩১ শতাংশ। খুলনায় মো. মনিরুজ্জামানের আয় কমেছে ৮,৩৬,০০০ টাকা থেকে ২,০০,০০০ টাকা বা ৭৬ শতাংশ। রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেনের আয় বেড়েছে ১,৬৮,০০০ টাকা থেকে ১,৯২,০০০ টাকা বা ১৪ শতাংশ। এই তিন মেয়র প্রার্থীর পাঁচ বছরে আয় কমেছে ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সঙ্গে আয় বৃদ্ধির একটি যোগসূত্র রয়েছে।

    ২০০৮ সালের নির্বাচিত মেয়র ও পরাজিত মেয়র পদপ্রার্থীদের সম্পদের দিকে তাকালেও একই প্রবণতা দেখা যায়। বরিশালের মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরে বেড়েছে ২০,৮৫,৩২৬ টাকা থেকে ১০,৯৪,৩৯,১৫০ টাকা বা ৫,১৪৮ শতাংশ। খুলনার তালুকদার আবদুল খালেকের বেড়েছে ১,৮৫,৯৭,৫৫০ টাকা থেকে ১০,০৮,৪১,২৯২ টাকা বা ৪৪২ শতাংশ। রাজশাহীর খায়রুজ্জামান লিটনের বেড়েছে ৯৬,৭৫,০০০ টাকা থেকে ১,৯৪,৪৭,১৯৮ টাকা বা ১৩৩ শতাংশ। সিলেটের কামরানের বেড়েছে ২,১৪,৭৮,২৯০ টাকা থেকে ৫,০০,৬২,৬২৪ টাকা বা ১৩৩ শতাংশ। চারজন বিদায়ী মেয়র ও তাঁদের নির্ভরশীলদের মোট সম্পদ বেড়েছে ১,২৯,৫৯,০৪১ টাকা থেকে ৬,৯৯,৪৭,৫৬৬ টাকা বা ৪৪০ শতাংশ। উল্লেখ্য, চারজন বিদায়ী মেয়রের দায়দেনা ছিল কম, তাই তাঁদের নিট সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণও ছিল বেশি।

    হলফনামার তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত তিন প্রধান প্রার্থীর মধ্যে দুজন ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ বেড়েছে এবং একজনের কমেছে। বরিশালের আহসান হাবীব কামালের কমেছে ২০০৮ সালের ১,০৪,১১,৬৫০ টাকা থেকে ২০১৩ সালে ২৭,৭৩,০০০ টাকা বা ৭৩ শতাংশ। খুলনার মনিরুজ্জামানের বেড়েছে ১৬,১৩,১০০ টাকা থেকে ৩০,৫৫,৫৩৭ টাকা বা ৮৯ শতাংশ। রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেনের বেড়েছে ১,৬৮,০০০ টাকা থেকে ১৯২,০০০ টাকা বা ১৪ শতাংশ। তবে ২০০৭ সালের নির্বাচনে পরাজিত খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী—এই তিন মহানগরের মেয়র পদপ্রার্থী ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের পাঁচ বছরে মোট সম্পদ কমেছে ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ সম্পদশালী হওয়া না-হওয়া নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে বিদায়ী মেয়রদের সবাই পরাজিত হয়েছেন এবং ২০০৮ সালে পরাজিত এ তিনজন মেয়র পদপ্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আরও জয়ী হয়েছেন সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।

    উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি সুস্পষ্ট যে ক্ষমতার সঙ্গে আয় ও সম্পদের মালিকানার গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রদত্ত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন বিদ্যমান। নির্বাচনে জয়ী হয়ে মেয়ররা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং এ ক্ষমতা তাঁদের ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের আয় ও সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে জাদুর কাঠির মতো কাজ করেছে। তবে নির্বাচনে পরাজিতদের প্রতি ভাগ্যদেবীর প্রসন্নতা তেমন দৃশ্যমান নয়। তাই সংগতভাবেই প্রশ্ন করা যায়—আমাদের রাজনীতি, যার লক্ষ্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া—লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে কি না। রাজনীতি জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তির অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে কি না।

    প্রসঙ্গত, আরও সাম্প্রতিক সময়ের সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রদত্ত হলফনামার তথ্য থেকে ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠির সম্পর্ক আরও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, যা পরবর্তী লেখায় তুলে ধরা হবে। তাই আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য নতুন ধরনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার কাঠামো সৃষ্টি করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

    একই সঙ্গে জরুরি হয়ে পড়েছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার, বিশেষত তাদের গণতন্ত্রায়ণ ও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মনোনয়ন–বাণিজ্য তথা টাকার অযাচিত প্রভাবের অবসান। আরও জরুরি হয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের প্রদত্ত হলফনামার ছকে পরিবর্তন এবং এতে প্রদত্ত তথ্যের পরিপূর্ণতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করার। হলফনামার ছকে ইতিমধ্যে পরিবর্তন এসেছে।

    • ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক। সূত্র: প্রথম আলো
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে কেন পা দিল ইরানিদের একাংশ?

    মার্চ 3, 2026
    মতামত

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানিদের পরিচয় মুছে ফেলতে পারবে না

    মার্চ 3, 2026
    মতামত

    কূটনীতি থেকে সংঘাত: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কীভাবে অনিবার্য হলো?

    মার্চ 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক আগস্ট 4, 2025

    ১১৭ বছরের সকল জমির দলিল এখন অনলাইনে

    বাংলাদেশ নভেম্বর 9, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.