Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Fri, Jan 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দেশের পদচারণা ও চীনের অবদান
    মতামত

    নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দেশের পদচারণা ও চীনের অবদান

    মনিরুজ্জামানDecember 30, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একবিংশ শতাব্দীতে জ্বালানি শিল্পোন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী ডিকার্বনাইজেশনের লক্ষ্যে দেশগুলো একযোগে এগিয়ে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক গুরুত্ব অর্জন করেছে।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ ও ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আসবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে শূন্য কার্বন উৎসে এ ব্যাপক রূপান্তর কেবল একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার এক মৌলিক ও কাঠামোগত রূপান্তর। এ রূপান্তর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গেও সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষত এসডিজি ৭-এর সঙ্গে, যা সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক জ্বালানি সেবায় সবার জন্য সর্বজনীন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ লক্ষ্য অর্জন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন, সামাজিক ন্যায়সংগতা জোরদার এবং একটি সবুজ ও অধিক স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশও এ বৈশ্বিক গতিধারার বাইরে নয়।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তরের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণে দেশটি এখনো অনেক এশীয় দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার মাত্র ১৪৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, যা ভারতের ৪৮০ দশমিক ৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা পাকিস্তানের ৪৫৬ দশমিক ২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের মতো প্রচলিত উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

    অথচ দেশীয় গ্যাস মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে; অনুমান করা হচ্ছে যে পুনরুদ্ধারযোগ্য গ্যাস মজুদ ১০ দশমিক ৪২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, যা আগামী এক দশকের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনা এখন আর এড়ানো সম্ভব নয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার উচ্চাভিলাষী নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

    এ লক্ষ্যগুলো তিনটি প্রধান বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে: বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রবণতা, দেশের জীবাশ্ম জ্বালানি মজুদের ক্রমহ্রাস ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডা। সম্মিলিতভাবে এসব বিষয় বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণ ত্বরান্বিত করার একটি শক্তিশালী যুক্তি প্রদান করে। একটি টেকসই জ্বালানি রূপান্তর শুধু আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণকেও শক্তিশালী করবে।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। যদিও মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশগ্রহণ মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি, তবুও এ খাতে দেশটি ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে মোট স্থাপিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৭ দশমিক শূন্য ৩ মেগাওয়াটে, যার মধ্যে সৌরশক্তির আধিপত্য স্পষ্ট।

    সৌরবিদ্যুৎ একাই ১ হাজার ২৫৩ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট অবদান রাখছে, যার মধ্যে ৮৭৬ দশমিক ৭৮ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফগ্রিড হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বায়ুশক্তি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৬২ মেগাওয়াট, জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং বায়োগ্যাস ও বায়োমাস মিলিয়ে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক হলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিসরের তুলনায় তা এখনো অপর্যাপ্ত। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এমন প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ঘাটতি, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের সংকট।

    একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এককভাবে বৃহৎ পরিসরের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—শুধু অর্থায়নের জন্য নয়, বরং জ্ঞান বিনিময়, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও।

    যুক্তরাজ্য, হংকং, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এদের মধ্যে চীন জ্বালানি খাতে এককভাবে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শুধু ২০২৩ সালেই চীন বাংলাদেশে ৬৬৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা অন্যান্য অনেক বিনিয়োগকারী দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। চীন বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে একাধিক বৃহৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের রামপালে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পাবনায় ৭০ মেগাওয়াটের সৌর প্রকল্প এবং মোংলায় ৫৫ মেগাওয়াটের একটি বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প।

    এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহায়তা প্রদানে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের বৈশ্বিক অবস্থানও বাংলাদেশে এর গুরুত্বকে আরো জোরদার করে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিকভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে মোট ৬৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে—যা বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি বিনিয়োগের ৩৮ শতাংশ—চীন সবুজ প্রযুক্তি উন্নয়ন, উৎপাদন ও বাস্তবায়নে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে চীনে নির্মিত সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বায়ু টারবাইন বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে।

    ফলে বাংলাদেশ বৃহৎ পরিসরে সাশ্রয়ী ও কার্যকর নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি অনন্য সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া ২০১৩ সালে চালু হওয়া এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরো গভীর করেছে। বাংলাদেশসহ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য বিআরআই এমন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, যা অন্যথায় অধরাই থেকে যেত। এ কাঠামোর আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার খাতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে চীন বিদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ার পর।

    তবে চীনা বিনিয়োগের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশে চীন সমর্থিত কিছু পূর্ববর্তী কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, বিশেষ করে পায়রা ও বাঁশখালী প্রকল্প। স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ এবং পরিবেশগত সমালোচনা অপর্যাপ্ত পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সীমিত কমিউনিটি অংশগ্রহণের ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতায় কঠোর পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে জোরালোভাবে নির্দেশ করে।

    আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সম্ভাবনা। যদিও চীনা যন্ত্রপাতি ব্যয়সাশ্রয়ী, অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিল্প ও কারিগরি দক্ষতার বিকাশকে সীমিত করতে পারে। শক্তিশালী স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়ন কৌশল ছাড়া বাংলাদেশ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সিস্টেম একীভূতকরণের ক্ষেত্রে বহিরাগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। চীনসহ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবেশও একাধিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। জটিল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো, ধীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটায়।

    লেটার অব ইনটেন্ট ইস্যুর পর প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট ৩১টি বৃহৎ সৌর প্রকল্প হঠাৎ বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক পরিসরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অনিশ্চিত নীতিগত পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন করে এবং দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে দ্বিধা তৈরি করে। নীতিগত অস্থিতিশীলতাও একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। বহু মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আইন, স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা এবং পূর্বানুমেয় নীতিপরিবেশ প্রয়োজন। যখন প্রকল্প অনুমোদন, ট্যারিফ নীতি, ভূমি অধিগ্রহণ বিধিমালা বা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হঠাৎ পরিবর্তিত হয়, তখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং প্রায়ই আরো স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

    এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরে চীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে। বিদেশে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অঙ্গীকার বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যয়সাশ্রয়ী সবুজ প্রযুক্তি উৎপাদনে চীনের নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়নকে আরো আর্থিকভাবে সম্ভবপর করে তুলছে।

    পাশাপাশি দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ইতিহাস দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করে। চীনা বিনিয়োগ ও সামগ্রিকভাবে বিদেশী বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশকে দৃঢ় নীতিগত সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে। শাসন ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। স্পষ্ট, পূর্বানুমেয় ও স্বচ্ছ জ্বালানি নীতি অনিশ্চয়তা কমাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিভাগ, স্রেডা, বিইআরসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় উন্নত করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    একই সঙ্গে সব বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড, সামাজিক সুরক্ষা এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ; দক্ষ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান এবং নীতিনির্ধারক তৈরি করা ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সর্বশেষে বিনিয়োগের সুফল যেন ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, বিশেষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য তা নিশ্চিত করা নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি জনসমর্থন বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এসডিজি-৭ অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক নিট জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য সাধনের পথে অগ্রসর হতে গিয়ে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা বহন করে। কৌশলগত সংস্কার, সতর্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে রূপান্তরমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

    ড. মুহাম্মদ বদরুল হাসান: সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্র: বণিক বার্তা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    মব ও অনলাইন আক্রমণে বেড়েছে নারীর নিরাপত্তাঝুঁকি

    January 8, 2026
    মতামত

    ভেনেজুয়েলার মতো ইরানে অভিযান কেন অসম্ভব?

    January 7, 2026
    মতামত

    সরকারের পদক্ষেপ কি তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে?

    January 7, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি August 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত April 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি August 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.