নতুন বছর শুরু হলো নতুন একটি যুদ্ধ দিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে “আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে”।
এই হামলাগুলো– যা দৃশ্যত একটি শাসন পরিবর্তনের অভিযান, বড়দিনের দিন চালানো হামলাগুলোর পরপরই ঘটেছিল। ওই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ায় বিমান হামলার অনুমোদন দেন এবং ভেনেজুয়েলার ওপর একটি সিআইএ ড্রোন হামলা অনুমোদন দিয়েছিলেন।
২৯ ডিসেম্বর, ট্রাম্প মার-আ-লাগোতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা সম্ভাব্য মার্কিন সম্রাটের দক্ষিণী প্রাসাদ হিসেবে বিবেচিত, তার পাশে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
“ডক এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে নৌকাগুলোতে মাদক তোলা হচ্ছিল” ট্রাম্প মিডিয়াকে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে। তিনি ভেনেজুয়েলায় প্রথম স্থলভিত্তিক হামলার কথা উল্লেখ করছিলেন, যা ক্যারিবীয় সাগরে মাছ ধরার নৌকাগুলোর ওপর কয়েক মাস ধরে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর প্রত্যাশিত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ওই হামলাগুলোর শিকাররা ছিল মাদক পাচারকারী। কংগ্রেসের সদস্যরা বলছেন, এগুলো যুদ্ধাপরাধের মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু তাতে কী?
নাইজেরিয়ায় হামলার ঘোষণা মিডিয়াকে দেওয়া হয়েছিল— যা দেশটিতে কথিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা— কিন্তু সোমালিয়ায় চালানো হামলাগুলো কোনো ঘোষণা ছাড়াই এবং কোনো প্রতিবেদন ছাড়াই চালানো হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সোমালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে; এটি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হস্তক্ষেপ, যা পশ্চিমা গণমাধ্যম প্রায় রিপোর্টই করে না।
ইসরায়েলের ক্ষেত্রে, ট্রাম্প ঠিক সেটাই পুনরাবৃত্তি করেন, যা নেতানিয়াহু শুনতে চেয়েছিলেন। একজন ভেন্ট্রিলোকুইস্টের কথায় কথা বলা পুতুলের মতো, ট্রাম্প নির্বিকার মুখে দাবি করেন যে ইসরায়েল গাজায় তার ঘোষিত ২০ দফা ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি “১০০ শতাংশ” মেনে চলেছে, আর হামাস তা লঙ্ঘন করেছে, কারণ তারা একতরফাভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেনি।
বাস্তবে, ১৩ অক্টোবরের পর থেকে চুক্তি অনুযায়ী হামাস জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে একজন ছাড়া হস্তান্তর করেছে, যদিও ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, ত্রাণ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং অসংখ্য হামলা চালিয়েছে, যাতে ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীর প্রতিদিনই কার্যত সংযুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো বছরের শেষের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় “প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার মানুষের একটি তীব্র ও নজিরবিহীন জনসংখ্যা হ্রাস” ঘটেছে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে গণহত্যা শুরুর আগের তুলনায় জনসংখ্যার ১০.৬ শতাংশ কম।
২০২৩ সাল থেকে গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজারের কিছু বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা জার্মানির সাম্প্রতিক একটি জনসংখ্যা বিষয়ক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দুই বছরের হামলায় ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ব্যর্থ শান্তি প্রচেষ্টা-
মার-আ-লাগোতেই ট্রাম্প আবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন, এমন এক যুদ্ধ থামাতে আরেক দফা নিষ্ফল আলোচনার জন্য, যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থামাতে চান— এমন কোনো ইঙ্গিত নেই, যখন রাশিয়া ড্রোন দিয়ে কিয়েভে হামলা চালাচ্ছে।
এর জবাবে, ইউক্রেন— যার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিআইএ প্রদত্ত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল— রাশিয়া-অধিকৃত কৃষ্ণসাগরীয় একটি রিসোর্ট শহরে একটি ক্যাফে ও হোটেলে হামলা চালায়, যাতে নববর্ষ উদযাপনরত ২৪ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়।
ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যে যদি একটি জিনিস তিনি পছন্দ করেন, তবে তা হলো— তারা তার মতোই অভিযুক্ত অপরাধী, যারা সবকিছু অস্বীকার করে: দুর্নীতি, হত্যা, যুদ্ধাপরাধ।
গাজাসহ ট্রাম্পের সব ‘শান্তি উদ্যোগের’ মতোই, ইউক্রেন-রাশিয়া উদ্যোগটিও কোথাও এগোচ্ছে না; এটি ট্রাম্প নামের এক অসৎ মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে একটি সন্দেহজনক রিয়েল এস্টেট চুক্তির মতো। নিউইয়র্কে এপস্টেইনের পার্টির দিনগুলো থেকে শুরু করে ট্রাম্পের চুক্তিগুলো কয়েক দশক ধরেই এমন— তিনি ভবন ছাড়ামাত্রই সব ভেঙে পড়ে।
ট্রাম্পের পরামর্শদাতা ছিলেন রয় কোহন, কুখ্যাত সিনেটর জো ম্যাকার্থির রাজনৈতিক উপদেষ্টা, যিনি ১৯৫০-এর দশকের কমিউনিস্টবিরোধী ডাইনি শিকার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কোহন ট্রাম্পকে শিখিয়েছিলেন “সাপ” হতে, “একজন বদমাশ” হতে এবং “এক নতুন ধরনের শয়তান” হতে।
ট্রাম্পের মতোই, কোহনও শেয়ার জালিয়াতি, বিচার ব্যাহত করা, মিথ্যা সাক্ষ্য, ঘুষ, ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো অভিযোগে বারবার অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতোই, শেষ পর্যন্ত অতীত তাকে ধরে না ফেলা পর্যন্ত তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রেহাই পেয়ে গিয়েছিলেন।
আসলে, ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে পছন্দ করেন তাদের, যারা তার মতোই অভিযুক্ত অপরাধী এবং সবকিছু অস্বীকার করে— দুর্নীতি, হত্যা, যুদ্ধাপরাধ— যেমন ট্রাম্পের বন্ধু নেতানিয়াহু।
বড়দিনে নেতানিয়াহু ব্যাপকভাবে নিন্দিত একটি ‘স্বাভাবিকীকরণ’ চুক্তিতে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেন। ওই চুক্তিতে সোমালিল্যান্ড নাকি গাজা থেকে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রহণে সম্মত হয়েছে এবং ইয়েমেন উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইসরায়েলকে একটি ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেবে।
চুক্তির প্রতিবাদে হাজার হাজার সোমালি রাস্তায় নেমে আসে, অনেকেই ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সোমালিয়ার ঐতিহাসিক সমর্থন প্রদর্শন করে।
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোআলিম ফিকি বলেন, মোগাদিশু “কোনো অবস্থাতেই” উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলের বিষয়ে ইসরায়েলের স্বীকৃতি মেনে নেবে না। তিনি যোগ করেন, “ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা বা তাদের [সোমালি] ভূখণ্ডে স্থানান্তরের যে কোনো আলোচনা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং নিজ ভূমিতে বসবাসের তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।”
নতুন মনরো নীতি-
ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্পের হামলা এবং আফ্রিকায় তার বিমান হামলাগুলো নভেম্বর মাসে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস)-এর প্রতিফলন। ওই কৌশলগত নথিতে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন সাম্রাজ্যের জন্য এক নতুন জাতীয়তাবাদী ও নব্য-উপনিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এটি যুদ্ধোত্তর যুগের মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ঐক্যের ট্রান্সআটলান্টিক অধ্যায়ের সমাপ্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
নথিটি যুক্তরাষ্ট্রকে আবার বিশ শতকে ফিরিয়ে নিতে চায়, যখন লাতিন আমেরিকা ছিল ওয়াশিংটনের ‘পেছনের উঠোন’ এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা ইচ্ছেমতো হস্তক্ষেপ করত।
এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল স্পষ্ট করে যে পশ্চিম ইউরোপ— রাশিয়া নয়— এখন ঐতিহাসিক মিত্র থেকে ‘সমস্যাপূর্ণ অঞ্চল’-এ নেমে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অভিবাসনবিরোধী ‘দেশপ্রেমিক’ দলগুলোর মাধ্যমে “ইউরোপের বর্তমান গতিপথের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার” কথা বলছে। নথিতে সতর্ক করা হয়েছে, অভিবাসনের কারণে ইউরোপ “সভ্যতাগত বিলুপ্তির” মুখে পড়তে পারে— যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত নথিতে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’-র প্রকাশ্য অনুমোদন।
নথিটি আবারও বিশ শতকের সেই যুগে ফিরে যাওয়ার কথা বলে, যখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবা থেকে চিলি পর্যন্ত স্বৈরাচারী, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন দিয়ে লাতিন আমেরিকায় নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল।
“আমরা মনরো নীতির ওপর একটি ‘ট্রাম্প করোলারি’ জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ করব,” নথিতে বলা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, গত কয়েক দশকের ব্যর্থ কেবল আইনপ্রয়োগভিত্তিক কৌশলের পরিবর্তে “প্রয়োজনে প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার” করা হবে এবং “কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশাধিকার প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণ” করা হবে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে “আমাদের তেল ফেরত নিতে” চান, যেটি দেশটি কয়েক দশক আগে জাতীয়করণ করেছিল এবং মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো শাভেজ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছিলেন। তারপর থেকেই দেশটি মার্কিন নিশানায় রয়েছে এবং তেল রপ্তানির ওপর ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে লাতিন আমেরিকা জুড়ে চরম ডানপন্থি প্রার্থীরা ক্ষমতায় আসছে— প্রথমে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এল সালভাদরে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ইকুয়েডর এবং এখন চিলি ও হন্ডুরাসে— ফলে ট্রাম্পপন্থী মিত্রদের একটি সারি তৈরি হয়েছে। তবে অঞ্চলটির দুই বৃহৎ দেশ ব্রাজিল ও মেক্সিকো আপাতত গণতান্ত্রিক বাম সরকারগুলোর হাতেই রয়েছে।
নীতির মারাত্মক ত্রুটি-
তবে এই নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির একটি বড়, সম্ভবত মৌলিক ত্রুটি রয়েছে— ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য।
প্রবীণ সাংবাদিক জেরেমি স্কাহিল গত মাসে দোহায় মিডল ইস্ট আই-এর আশফাক করিমকে বলেন, ৯/১১ হামলা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের পর থেকে “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দেখা একটি ভুল”। নির্বাহী ও আইনপ্রণয়ন শাখাজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে শৃঙ্খলিত। স্কাহিলের ভাষায়, “ইসরায়েল একটি জাতিরাষ্ট্রের ছদ্মবেশে এক সিরিয়াল কিলার”, যার আছে “যুদ্ধবিরতি ভাঙায় পিএইচডি”, যা ট্রাম্প— তার আগে বাইডেনের মতোই— দেখতে চান না এবং দেখবেনও না।
ট্রাম্প গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ থামিয়ে ইসরায়েলকে নিজের হাত থেকেই রক্ষা করেছিলেন, কিন্তু তার বদলে গাজা ও পশ্চিম তীর পুনরায় উপনিবেশে পরিণত করার একটি হাইব্রিড যুদ্ধ চাপিয়ে দেন। যতদিন মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করবে, ততদিন তাকে লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের অন্তহীন যুদ্ধাপরাধ ও উপনিবেশ বিস্তারকে সমর্থন ও আড়াল করতে হবে এবং অনিবার্যভাবে আরও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হবে।
নেতানিয়াহু তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে আবারো যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তেহরানকে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব ও জাতিরাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের এই নীতির বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া হলো— যে কোনো শক্তি বা রাষ্ট্রগোষ্ঠী একই বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করতে পারে, যেমন ইতিমধ্যেই করছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের পুনঃসশস্ত্র পরিকল্পনা থেকে শুরু করে লোহিত সাগরে আমিরাতের নতুন সাম্রাজ্যবাদ, কিংবা ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পদের ওপর সৌদি আরবের হামলা। বহুপাক্ষিকতার মৃত্যু এভাবেই দেখতে হয়।
আর ভেনেজুয়েলার ওপর সর্বশেষ হামলার মধ্য দিয়ে, ২০২৬ সালের বিশ্ব ইতিমধ্যেই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে।
- লেখক—জো গিল: লন্ডন, ভেনেজুয়েলা এবং ওমানে ফিনান্সিয়াল টাইমস, মর্নিং স্টার এবং মিডল ইস্ট আই সহ সংবাদপত্রগুলিতে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। তার মনোযোগ ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক আন্দোলন এবং শিল্পকলার উপর। সূত্র: ‘মিডল ইস্ট আই’য়ের ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত।

